ভারতীয় ক্রিকেটে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দুই নাম—মহম্মদ শামি এবং ঈশান কিষাণ। এক সময় দুজনেই বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতির চাকা ঘুরছে দ্রুত। রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে বাংলার হয়ে ৮ উইকেট নিয়ে মহম্মদ শামি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, বয়স এবং চোট তাঁর ধার কমাতে পারেনি। আর শামির এই বিধ্বংসী প্রত্যাবর্তনের আবহে বারবার উঠে আসছে ঈশান কিষাণের নাম। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ঈশানের কামব্যাকের ফর্মুলাই এখন শামির প্রত্যাবর্তনের প্রধান চাবিকাঠি।
ঈশানের অন্তর্ভুক্তি ও শামির আশা: ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সবাইকে চমকে দিয়ে ঈশান কিষাণকে দলে ফেরান অজিত আগরকররা। গত এক বছর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে এবং সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পান তিনি। নির্বাচক কমিটির নতুন সদস্য আরপি সিং এবং প্রজ্ঞান ওঝার প্রভাবেই কিষাণ ব্রাত্য থেকে ঘরের ছেলে হয়ে উঠেছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি শৃঙ্খলাভঙ্গের দায় কাটিয়ে ঈশান ফিরতে পারেন, তবে পারফরম্যান্সের বিচারে শামিকে দূরে সরিয়ে রাখা নির্বাচকদের পক্ষে অসম্ভব। বিশেষ করে, হর্ষিত রানা বা সিরাজরা যখন মাঝেমধ্যেই খেই হারাচ্ছেন, তখন শামির অভিজ্ঞতা টিম ইন্ডিয়ার জন্য সম্পদ হতে পারে।
শামির ‘সুপার’ পারফরম্যান্স: চোট সারিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরেছেন শামি। মঙ্গলবার রঞ্জি সেমিফাইনালে ৯৮ রান খরচ করে ৮ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এর আগে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধেও ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। চলতি মরসুমে মাত্র ৭ ম্যাচে ৩৮ উইকেট নিয়ে তিনি এখন ঘরোয়া ক্রিকেটের সেরা পারফর্মারদের একজন। গত ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকে শামি নীল জার্সিতে ব্রাত্য হলেও, তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম নির্বাচকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
২০২৭ বিশ্বকাপের ব্লু-প্রিন্ট: সামনেই ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবোয়ের কন্ডিশনে শামির মতো সিম বোলার কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিসিসিআই-এর অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঈশান কিষাণ যেমন ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের পাহাড় গড়ে নির্বাচকদের বাধ্য করেছেন তাঁকে নিতে, শামিও উইকেটের ফুলঝুরি ছুটিয়ে সেই একই পথে হাঁটছেন। আগামীর টেস্ট সিরিজ এবং আইপিএল ২০২৬-এ লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে শামির পারফরম্যান্সই চূড়ান্ত সিলমোহর দেবে তাঁর কামব্যাকে।