থামানো যাচ্ছে না সুদীপকে! কোয়ার্টারের পর সেমিতেও দুরন্ত সেঞ্চুরি, নবি-ত্রাস কাটিয়ে ফাইন্যালের পথে বাংলা

রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে ২৯৯ রানের সেই মহাকাব্যিক ইনিংস যেখানে শেষ হয়েছিল, সেমিফাইনালের মঞ্চে ঠিক সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন সুদীপ ঘরামি। চাপের মুখে কীভাবে ব্যাট করতে হয়, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন বাংলার এই তরুণ তুর্কি। বিপক্ষ শিবিরের তুরুপের তাস মহম্মদ নবিকে কার্যত সাধারণ মানের বোলারে পরিণত করে আজ সেমিতেও সেঞ্চুরি হাঁকালেন তিনি। সুদীপের এই চওড়া ব্যাটে ভর করেই এখন বড় রানের লক্ষ্যে এগোচ্ছে বাংলা।

খেলার শুরু থেকেই সুদীপের ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। কোয়ার্টার ফাইনালে মাত্র ১ রানের জন্য ট্রিপল সেঞ্চুরি মিস করার আক্ষেপ কি তাঁর মনে ছিল? আজকের ব্যাটিং দেখে অন্তত তেমনটাই মনে হচ্ছে। নবির ঘূর্ণি হোক বা পেসারদের বাউন্স—সবই অবলীলায় সামলালেন তিনি। মাঠের চারদিকে তাঁর শট সিলেকশন ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে স্পিনারদের বিরুদ্ধে তাঁর পায়ের কাজ এবং বড় শট খেলার প্রবণতা প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে বারবার ফিল্ডিং সাজাতে বাধ্য করেছে।

বাংলার ইনিংসের হাল ধরে সুদীপ কেবল নিজের শতরান পূর্ণ করেননি, বরং দলকে একটি মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের নিয়ে ছোট ছোট পার্টনারশিপ গড়ে স্কোরবোর্ডকে সচল রেখেছেন তিনি। অভিজ্ঞ মহম্মদ নবিকে সামলানোই ছিল আজকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সুদীপ সেই চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করেছেন। তাঁর এই মারকুটে মেজাজ দেখে মনে হচ্ছে, বাংলা প্রথম ইনিংসেই ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যেতে চাইছে।

এই মুহূর্তে বাংলার ড্রেসিংরুমে স্বস্তির হাওয়া। কোচ ও অধিনায়কের পরিকল্পনা ছিল প্রথম থেকেই জাঁকিয়ে বসা, আর সুদীপ ঠিক সেই কাজটাই করে দেখিয়েছেন। এখন দেখার, এই সেঞ্চুরিকে তিনি কত বড় ইনিংসে রূপান্তর করতে পারেন এবং বাংলাকে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে কতটা সাহায্য করেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy