ভারতীয় ক্রিকেটে এমন কিছু চরিত্র থাকেন যারা নিঃশব্দে নিজেদের কাজটা করে যান, অথচ জয় নিশ্চিত করতে তাদের অবদান থাকে অনস্বীকার্য। তেমনই একজন ক্রিকেটার হলেন অক্ষর প্যাটেল। বছরের পর বছর রবীন্দ্র জাডেজার মতো মহাতারকার ছায়ায় ঢাকা থাকলেও, বর্তমান ভারতীয় দলে তিনি এখন অপরিহার্য।
চোটের দীর্ঘ লড়াই ও ফিরে আসা: অক্ষরের কেরিয়ারে চোট ছিল এক নির্মম পরিহাস। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে চোটের জন্য ছিটকে যাওয়া আজও তাঁর কাছে দগদগে ক্ষত। অক্ষরের ছোটবেলার বন্ধু কেভাল প্যাটেলের কথায়, “অক্ষরের চোট মানেই পরিবারের সবার মনে আশঙ্কার মেঘ।” তবে ২০২৪-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২৫-এর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাঁর পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিয়েছে তিনি ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়াতে জানেন। নিউজিল্যান্ড সিরিজে আঙুলে চোট পেলেও আসন্ন বিশ্বকাপের আগে তিনি সম্পূর্ণ ফিট হওয়ার লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন।
পারিবারিক জীবনের নতুন ইনিংস: মাঠের বাইরে অক্ষরের জীবন এখন আবর্তিত হচ্ছে তাঁর পরিবারকে ঘিরে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবার বাবা হয়েছেন তিনি। এখন তাঁর সমস্ত অবসরের সঙ্গী ‘ছোট প্যাটেল’। আসন্ন বিশ্বকাপে গ্যালারিতে বসে বাবার খেলা দেখবে তাঁর ছেলে—এই মুহূর্তটিই এখন প্যাটেল পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় আবেগের।
অধিনায়কত্ব ও নিঃশব্দ পারফরম্যান্স: দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্যাপ্টেন হিসেবে তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলি মুগ্ধ করেছে দলের ডিরেক্টর ভেনুগোপাল রাওকেও। তাঁর মতে, অক্ষরের ম্যাচ রিডিং ক্ষমতা অসাধারণ। ২০১৩-১৪ রঞ্জি ট্রফিতে ৬ উইকেট নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা মহীরুহে পরিণত হয়েছে। প্রচারের আলোয় অন্যরা থাকলেও, অক্ষর আজও সেই সাধারণ এবং সরল মানুষটিই রয়ে গিয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপ তাই অক্ষরের কাছে কেবল ট্রফি জয়ের নয়, বরং তাঁর ছেলের সামনে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণের লড়াই।