ইতিহাসের পাতায় মুশফিকুর! শততম টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে মিয়াঁদাদ-পন্টিংদের এলিট ক্লাবে প্রবেশ, গড়লেন যে ভারতীয়-হীন নজির

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন পালক যোগ করলেন তারকা ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টে মাঠে নামার পরই তিনি ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। বৃহস্পতিবার আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সেই কীর্তির পরিসর আরও বাড়িয়ে নিলেন প্রাক্তন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

এলিট ক্লাবে মুশফিক:

মুশফিকুর রহিম বাইশ গজের ইতিহাসে একাদশ ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকানোর বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাভেদ মিয়াঁদাদ, গর্ডন গ্রিনিজ, রিকি পন্টিং, হাসিম আমলা এবং জো রুটের মতো কিংবদন্তিদের এলিট ক্লাবে প্রবেশ করে গেলেন। উল্লেখ্য, এই ঐতিহাসিক রেকর্ডে এখনও পর্যন্ত কোনো ভারতীয় ব্যাটারের নাম নেই।

প্রথম দিন শেষে মুশফিকুর ব্যক্তিগত ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। এদিন দ্বিতীয় ওভারেই তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত শতরান পূর্ণ করেন। যদিও সেঞ্চুরির পর তাঁর ইনিংসটি খুব বেশি লম্বা হয়নি। পঞ্চম উইকেটে লিটন দাসের সঙ্গে ১০৮ রানের মূল্যবান জুটি গড়ে ১০৬ রানে সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর। তাঁর ২১৪ বলের ইনিংসে ছিল মাত্র পাঁচটি চার।

দেশের হয়ে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ড:

মীরপুরে এদিন মুশফিকুর তাঁর টেস্ট কেরিয়ারের ত্রয়োদশ শতরানটি পূর্ণ করলেন। এটি বাংলাদেশ ব্যাটার হিসেবে সর্বাধিক সেঞ্চুরির নজির। তিনি এই রেকর্ডটি সতীর্থ মোমিনুল হকের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন। এর আগে তৃতীয় উইকেটে মোমিনুলের সঙ্গেই ১০৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েছিলেন শততম টেস্ট খেলতে নামা মুশফিকুর। শেষ পর্যন্ত শততম টেস্ট সেঞ্চুরিতে রাঙিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি।

লিটন দাসের শতরান:

মুশফিকুরের পর এদিন সেঞ্চুরি হাঁকান উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাসও। লিটন ১৯২ বলে ১২৮ রানের মারকাটারি ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল আটটি চার ও চারটি ছক্কা। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই তিনি তাঁর পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। বিরতির পর লিটন আউট হলেও, বাংলাদেশ দল ৫ উইকেটে ৩৮৭ রান তুলে প্রথম সেশন শেষ করেছিল এবং আইরিশদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সাড়ে চারশো রানের গণ্ডি পেরিয়ে রানের পাহাড় গড়ে তুলেছে।

শততম টেস্টে শতরান করা ব্যাটারদের তালিকা:

কলিন কাউড্রে (ইংল্যান্ড), 1968

জাভেদ মিয়াঁদাদ (পাকিস্তান), 1989

গর্ডন গ্রিনিজ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), 1990

অ্যালক স্টুয়ার্ট (ইংল্যান্ড), 2000

ইনজামাম-উল-হক (পাকিস্তান), 2005

রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া), 2006

গ্রেম স্মিথ (দক্ষিণ আফ্রিকা), 2012

হাসিম আমলা (দক্ষিণ আফ্রিকা), 2017

জো রুট (ইংল্যান্ড), 2021

ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া), 2022

মুশফিকুর রহিম (বাংলাদেশ), 2025

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy