অসমে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে বড়সড় চাল চালল ভারতীয় জনতা পার্টি। মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে দলের নির্বাচনী ইস্তেহার বা ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। আগামী ৯ এপ্রিল অসমে বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই ৩১টি গুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করল গেরুয়া শিবির। ইস্তেহারের সবথেকে বড় আকর্ষণ হলো রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে ৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের অঙ্গীকার। অর্থমন্ত্রীর দাবি, গত এক দশকে অসমের যে রূপান্তর হয়েছে, তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই বিজেপির লক্ষ্য।
বিজেপির এই সংকল্প পত্রে জাতীয় নিরাপত্তা এবং সংস্কৃতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ইস্তেহারে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ক্ষমতায় ফিরলে অসমে ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালু করা হবে। তবে জনজাতীয় এলাকাগুলোকে এর আওতার বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে ভূমি রক্ষার জন্য ‘মিশন বসুন্ধরা’র মাধ্যমে কড়া পদক্ষেপ এবং ‘লভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ রুখতে কঠোর আইন আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অসমের দীর্ঘদিনের সমস্যা বন্যার সমাধানে ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বন্যা মুক্ত অসম’ মিশনের ঘোষণাও করা হয়েছে এই ইস্তেহারে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক বড় ঘোষণা করেছে বিজেপি। যার মধ্যে অন্যতম হলো ২ লক্ষ সরকারি চাকরি এবং ১০ লক্ষ যুবকের জন্য স্বনির্ভরতার সুযোগ। মহিলাদের জন্য ‘অরুণোদয়’ প্রকল্পের আর্থিক সাহায্য বাড়িয়ে মাসে ৩,০০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও ‘এক জেলা, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং ডিব্রুগড়কে রাজ্যের দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়েছে বিজেপি। নির্মলা সীতারামন বলেন, “কংগ্রেস গত ৬০ বছরে যা করতে পারেনি, বিজেপি তা ১০ বছরে করে দেখিয়েছে।” এখন দেখার, ৫ লক্ষ কোটির এই বিনিয়োগের টোপ অসমের ভোটারদের পদ্ম শিবিরে কতটা টানতে পারে।