২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় অন্যতম বড় চমক প্রবীণ জননেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ৮২ বছর বয়সেও রাজনীতির ময়দানে সমান সক্রিয় তিনি। খড়দহ ছেড়ে এবার দক্ষিণ কলকাতার হেভিওয়েট কেন্দ্র বালিগঞ্জ থেকে লড়াই করছেন মমতার দীর্ঘদিনের এই বিশ্বস্ত সৈনিক। তৃণমূলের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই নেতার প্রোফাইল এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
তৃণমূলের প্রথম বিধায়ক ও বর্ণময় জীবন: শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় কেবল একজন মন্ত্রী নন, তিনি তৃণমূলের এক জীবন্ত ইতিহাস। ১৯৯৮ সালে যখন তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হয়, তিনিই ছিলেন দলের টিকিটে জয়ী প্রথম বিধায়ক (রাসবিহারী উপনির্বাচন)। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিদ্যুৎ থেকে কৃষি— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সামলেছেন তিনি। বর্তমান বিধানসভার ‘ডেপুটি লিডার অফ দ্য হাউস’ হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা দলের কাছে অমূল্য সম্পদ।
সম্পত্তি ও হলফনামার তথ্য: নির্বাচনী হলফনামা এবং পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সম্পত্তির পরিমাণ কৌতূহল জাগানোর মতো। গত নির্বাচনের রেকর্ড বলছে:
তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
তবে তাঁর বিশেষত্ব হলো, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বড়সড় ফৌজদারি মামলা বা দুর্নীতির দাগ নেই। স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই বালিগঞ্জের ভোটারদের কাছে তাঁর প্রধান ইউএসপি (USP)।
বালিগঞ্জে জয়ের সম্ভাবনা: বালিগঞ্জ কেন্দ্রটি বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সুব্রত মুখোপাধ্যায় বা বাবুল সুপ্রিয়র মতো নেতাদের জেতানো এই কেন্দ্রে শোভনদেবের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অ্যাডভান্টেজ দিচ্ছে। তবে বিরোধীরা তাঁর বয়সের বিষয়টি সামনে আনলেও, তৃণমূল কর্মীদের দাবি— “বক্সিং রিং হোক বা রাজনীতির মাঠ, ৮২ বছরেও শোভনদেব আনবিটেবল।”
অজানা কিছু তথ্য: অনেকেই হয়তো জানেন না, তুখোড় রাজনীতিক হওয়ার পাশাপাশি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় একজন দক্ষ বক্সার ছিলেন। আজও ভোরে উঠে শরীরচর্চা তাঁর রুটিনের অংশ। এবার বালিগঞ্জের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে সেই ‘ফাইটিং স্পিরিট’ কতটা কাজ করে, তার দিকেই তাকিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহল।





