সম্পর্কের মর্যাদা আর বয়সের বিচার সবটাই তুচ্ছ হয়ে গেল লালসার কাছে। ৭০ বছরের এক বৃদ্ধের লালসার শিকার হতে হলো মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে। শুধু শারীরিক নিগ্রহই নয়, ওই পৈশাচিক ঘটনার জেরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে নির্যাতিতা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর যখন তড়িঘড়ি নাবালিকাকে গর্ভপাত করাতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই এক নতুন মোড় নিল এই ট্র্যাজেডি। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও গর্ভপাতের প্রক্রিয়ার মাঝেই জন্ম নিল এক প্রাক-পরিণত (Pre-mature) শিশু।
স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ৭০ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে নাবালিকার ওপর দীর্ঘ দিন ধরে প্রভাব খাটিয়েছিল। ভয় দেখিয়ে এবং মুখ বন্ধ রাখার হুমকি দিয়ে সে বারবার ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ধরা পড়ে যে নাবালিকা ছয় মাসেরও বেশি সময়ের অন্তঃসত্ত্বা। নাবালিকার ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক লাঞ্ছনার কথা ভেবে পরিবার আইনি পথে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেয়।
আদালতের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে যখন একটি সরকারি হাসপাতালে ওই নাবালিকার গর্ভপাত করানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখনই ঘটে এই ঘটনা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নাবালিকার শারীরিক অবস্থা এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের বিকাশের কারণে স্বাভাবিক গর্ভপাতের বদলে প্রি-ম্যাচিওর সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে শিশুটি এবং নাবালিকা দুজনেই চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তবে এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ৭০ বছরের ওই বৃদ্ধকে পকসো (POCSO) আইনের একাধিক ধারায় গ্রেফতার করেছে। ধৃতের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি। একলা ১৬ বছরের নাবালিকার জীবনে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং তার কোলে আসা এই অনভিপ্রেত নবজাতকের ভবিষ্যৎ এখন এক বড় প্রশ্নচিহ্ন। এই ঘটনা আরও একবার সমাজকে মনে করিয়ে দিল যে, অপরাধীদের কোনো বয়স হয় না এবং শিশু সুরক্ষায় আমাদের আইনি ও সামাজিক নজরদারি আরও কতটা বাড়ানো প্রয়োজন।