হায়দ্রাবাদ: ‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১’-এর হাত ধরে ঋষভ শেট্টি আবারও এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন। হোম্বালে ফিল্মসের এই ব্লকবাস্টার প্রিক্যুয়েলে তিনি একাধারে পরিচালক, অভিনেতা এবং সহ-লেখক—এই তিনটি দায়িত্ব সামলেছেন। ছবিতে ঋষভকে তরুণ ও প্রাণবন্ত ‘বেরমে’ এবং একই সঙ্গে রহস্যময় চরিত্র ‘মায়াকারা’র দ্বৈত ভূমিকায় দেখা গেছে। তাঁর এই অবিশ্বাস্য রূপান্তরের নেপথ্য-ভিডিও, অর্থাৎ ‘মেকিং অফ মায়াকারা’ এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছে টিম কান্তারা।
প্রায় দুই মিনিটের এই ভিডিওতে ‘মায়াকারা’ চরিত্রে ঋষভের রূপান্তরের পেছনে থাকা কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ঝলক দেখা যায়। ভিডিওটি শুরু হয় রাত ৩টেয়, যখন ঋষভ মেকআপ এবং প্রস্থেটিক্সের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। দিনের আলো এবং টাইম-ল্যাপ্স ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে দেখা যায় যে, অভিনেতা এই জাদুকরী চরিত্রটির নিখুঁত রূপ দিতে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে মেকআপ ও প্রস্থেটিক্স সহ্য করেছেন।
কোঁচকানো ত্বক, ধূসর চুল, এবং বয়স্ক অথচ তেজস্বী চোখ — ক্যামেরার পেছনে থাকা ‘টিম কান্তারা’কে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে দেখা গেছে। অবশেষে সেট-এ যাওয়ার আগে ঋষভ ধৈর্য ধরে আয়নায় শেষ লুকটি দেখে নিচ্ছেন। এই ‘মেকিং অফ মায়াকারা’ ভিডিওতে সেই সূক্ষ্ম কারুকার্য ও বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে, যা এই পৌরাণিক চরিত্রটিকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছে। উল্লেখ্য, এই মেকআপ টিমের নেতৃত্বে ছিলেন সুরেশ কুমার।
২০২২ সালের ব্লকবাস্টার ‘কান্তারা’-এর প্রিক্যুয়েল হিসেবে তৈরি হোম্বালে ফিল্মসের এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টটি ২৫ দিন ধরে সিনেমা হলগুলিতে সফলভাবে চলছে। ঋষভ শেট্টি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, এই ছবির চ্যালেঞ্জ প্রথমটির চেয়েও বেশি ছিল। তবে এই ছবি আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে দর্শক মন জয় করেছে। তাঁর কথায়, “আমি ভাবিনি ‘কান্তারা’ এত বড় সাড়া পাবে। তবে আমি নিশ্চিত ছিলাম কর্ণাটকের মানুষ এটি পছন্দ করবে। ধীরে ধীরে মাউথ অফ ওয়ার্ডের মাধ্যমে এটি তামিল, তেলুগু, মালয়ালম এবং অবশেষে হিন্দি দর্শকদের কাছে পৌঁছায়, যার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
বক্স অফিসেও ‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১’ অপ্রতিরোধ্য। বিশ্বব্যাপী ₹৮০০ কোটি-এর বেশি আয় করে ছবিটি বর্তমানে ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় চলচ্চিত্রের তালিকায় শীর্ষে থাকার পথে। ঋষভ ছাড়াও এই ছবিতে রুক্মিণী বসন্ত, জয়রাম এবং গুলশান দেবাইয়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ঋষভের সঙ্গে অনিরুধ মহেশ এবং শানিল গৌতম সহ-লেখক হিসেবে কাজ করেছেন। সিনেমাটোগ্রাফার অরবিন্দ এস. কাশ্যপ এবং সঙ্গীত পরিচালক অজনেশ লোকনাথ প্রথম ছবির সাফল্যের পর এই নতুন অধ্যায়েও ফিরে এসেছেন। সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন সুরেশ মাল্লাইয়া।





