দীর্ঘ ৪৮ বছরের অবসান। অবশেষে খুলতে চলেছে ওড়িশার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যময় ‘রত্নভাণ্ডার’। ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম মন্দিরের ভেতরের মূল্যবান অলঙ্কার ও মণিরত্ন গণনার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। গোটা দেশের নজর এখন এই রত্নভাণ্ডারের দিকে। মন্দিরের অভ্যন্তরে থাকা এই প্রকোষ্ঠে ঠিক কত পরিমাণ সোনা, হিরে এবং রূপো সঞ্চিত রয়েছে, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান বর্তমান প্রজন্মের কাছে নেই।
প্রশাসনের প্রস্তুতি: ওড়িশা সরকারের নির্দেশে বিচারপতি বিশ্বনাথ রথের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ সকালে শুভক্ষণ দেখে রত্নভাণ্ডারের দরজা খোলার কাজ শুরু হবে। যদি চাবিতে কোনো বিভ্রাট ঘটে, তবে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে মন্দিরের চারপাশে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ভেতরে যাওয়ার সময় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে থাকবেন অভিজ্ঞ কামার ও স্যাকরারা, যাঁরা অলঙ্কার পরীক্ষার কাজে দক্ষ।
ভেতরের রহস্য: জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভাণ্ডার মূলত দুটি অংশে বিভক্ত— ‘বাহার ভাণ্ডার’ ও ‘ভিতর ভাণ্ডার’। বাহার ভাণ্ডারের অলঙ্কার বিভিন্ন উৎসবের সময় বের করা হলেও, ভিতর ভাণ্ডারের রহস্য রয়ে গেছে অজানাই। কথিত আছে, এখানে রাজ-রাজড়াদের দান করা কয়েক কুইন্টাল সোনা এবং দুষ্প্রাপ্য মণিরত্ন রয়েছে। গণনার পাশাপাশি এই কক্ষের কাঠামোগত মেরামতির কাজও করা হবে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পুরী শহরে এখন লাখো ভক্তের ভিড়।