৪৫ মিনিটের ভাষণ শেষ মাত্র ৫ মিনিটে! রাজভবন-নবান্ন সংঘাতে বিধানসভায় নজিরবিহীন ড্রামা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই আজ এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। প্রথা অনুযায়ী রাজ্যপালের ভাষণের জন্য ৪৫ মিনিট বরাদ্দ থাকলেও, মাত্র ৫ মিনিট পড়েই ভাষণ থামিয়ে দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণের একটি নির্দিষ্ট অংশে আপত্তি জানিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আই উইল নট রিড মোর” (এর বেশি আমি পড়ব না)। এরপরই তিনি ভাষণটি স্পিকারের কাছে ‘লে’ (Lay) বা পেশ করে কক্ষ ত্যাগ করেন।

ঠিক কী ঘটেছিল বিধানসভায়? সূত্রের খবর, ভাষণের শুরুটা স্বাভাবিক থাকলেও ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদটি আসতেই রাজ্যপাল থেমে যান। সেখানে লেখা ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্প আটকে রেখেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এই তথ্যের স্বপক্ষে রাজ্যের কাছে কোনও নথি নেই বলেই রাজ্যপাল তা পড়তে অস্বীকার করেছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে গিয়ে রাজ্যপালকে কারণ জিজ্ঞাসা করেন। পরে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে প্রোটোকল মেনে জাতীয় সঙ্গীত পর্যন্ত অপেক্ষা করে বিধানসভা ছাড়েন রাজ্যপাল।

শাসক ও বিরোধী তরজা: রাজ্যপালের এই পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “রাজ্যপাল নিজের মেরুদণ্ড সোজা রেখে মিথ্যা ভাষণ বয়কট করেছেন। তামিলনাড়ুর পর বাংলাতেও এমন সাহস দেখা গেল। হ্যাটস অফ টু গভর্নর!” তিনি আরও যোগ করেন, জমি অধিগ্রহণ না করেই কেন্দ্রকে দোষারোপ করার স্ক্রিপ্ট রাজ্যপাল কেন পড়বেন?

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে বিতর্কিত হিসেবে দেখতে নারাজ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যপাল যা বলার বলে গিয়েছেন। বাংলা কোথায় কোথায় এক নম্বর, তা উনি উল্লেখ করেছেন। ওনাকে ধন্যবাদ।” শাসক দলের দাবি, বিধানসভায় ভাষণ ‘লে’ করা মানেই সেটি রাজ্যপাল গ্রহণ করেছেন এবং তা সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে এই ঘটনা যে রাজ্য ও রাজভবনের তিক্ততা আরও বাড়িয়ে দিল, তা স্পষ্ট।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy