ভোট মিটেছে, কিন্তু শান্তি কি ফিরবে? আগামী ৪ মে গণনার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরালো হচ্ছে ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’র আশঙ্কা। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতি উসকে দিয়ে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক জনৈক মামলাকারী। তাঁর দাবি, ফল ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য ছেড়ে চলে গেলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কার্যত শিকেয় উঠবে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার দাবিতে দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা।
অতীতের ক্ষত ও বর্তমান আশঙ্কা মামলাকারীর যুক্তি, একুশের বিধানসভা নির্বাচন হোক বা তার পরবর্তী পঞ্চায়েত ভোট—প্রতিবারই ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভয়াবহ হিংসার ছবি দেখা গেছে। বিশেষ করে বিরোধীদের ওপর হামলা এবং ঘরছাড়া হওয়ার মতো ঘটনা বাংলায় এখন ‘রেকর্ড’। এবারের নির্বাচনেও বিক্ষিপ্ত অশান্তি দানা বেঁধেছে। মামলাকারীর আশঙ্কা, ৪ মে ফলাফল ঘোষণা হতেই সেই বারুদ আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।
আদালতে কী দাবি জানানো হয়েছে? হাইকোর্টে পেশ করা আবেদনে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
বাহিনীর মেয়াদ বৃদ্ধি: ফল ঘোষণার অন্তত এক মাস পর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বাংলায় রাখতে হবে। যাতে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগে তারা ফিরে না যায়।
নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট: ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার স্পষ্ট রূপরেখা কোর্টে জমা দিতে হবে।
কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে যাওয়ার পর রাজ্য পুলিশ একা কতটা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরাও। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে।
ভোটের ফল প্রকাশের পর বাংলা কি শান্ত থাকবে, নাকি ফের দেখা যাবে অশান্তির সেই চেনা ছবি? এই আইনি লড়াইয়ের দিকে এখন নজর গোটা রাজ্যের।
বাংলার রাজনীতি ও ভোট পরবর্তী পরিস্থিতির প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং আপডেটের জন্য চোখ রাখুন ডেইলিয়ান্ট (DailyHunt)-এ। আপনার এলাকায় কি উত্তাপ বাড়ছে? আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।





