২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার অনেক আগেই পারদ চড়াতে শুরু করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সন্ধ্যায় এক জনসভা থেকে তিনি রাজ্যের শাসকদল এবং বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে তীব্র আক্রমণ শানালেন। শুভেন্দুর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, আগামী নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতাতে সীমান্ত পারের নিষিদ্ধ সংগঠন ‘জামাত-ই-ইসলামি’-র সাহায্য নেওয়া হবে।
বিস্ফোরক অভিযোগের সারমর্ম শুভেন্দু অধিকারী এদিন সরাসরি দাবি করেন যে, ওপার বাংলার কট্টরপন্থী সংগঠনগুলি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে প্রভাব খাটাতে পারে। তিনি বলেন, “২৬-এর ভোটে ওপারের জামাতরা তৃণমূল এবং হুমায়ুন কবীরদের সাহায্য করবে।” বিরোধী দলনেতার ইঙ্গিত, সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। বিশেষ করে হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শুভেন্দু বোঝাতে চেয়েছেন যে, এক গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে।
নিশানায় হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের দাপুটে তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর অতীতেও একাধিকবার তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সংবাদ শিরোনামে এসেছেন। শুভেন্দু এদিন তাঁকেই আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তু করেন। বিরোধী দলনেতার মতে, নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের ভোটব্যাঙ্ক সুনিশ্চিত করতে এবং বিভাজনের রাজনীতি করতে তৃণমূল এই ধরণের নেতাদের সামনে রাখছে এবং তাঁদের পিছনে বিদেশি শক্তির মদত থাকছে।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া শুভেন্দুর এই অভিযোগের পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাল্টায় জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনে হার নিশ্চিত জেনে শুভেন্দু অধিকারী এখন থেকেই সাম্প্রদায়িক উসকানি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। শাসকদলের দাবি, বাংলার মানুষ উন্নয়নের নিরিখেই ভোট দেবেন, কোনো বিদেশি শক্তির এখানে জায়গা নেই।
তবে ২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে শুভেন্দুর এই ‘জামাত কার্ড’ যে বাংলার রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক যোগ করল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং নির্বাচন কমিশন এই ধরণের অভিযোগের পর কতটা সতর্ক থাকে, সেটাই এখন দেখার।