সাফল্যের কোনো নির্দিষ্ট বয়সের সীমা থাকে না—এই প্রবাদকে যেন নতুন করে সত্য প্রমাণ করলেন ছত্তিশগড়ের রাইপুরের বাসিন্দা চারু পান্ডে। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই একের পর এক নজির গড়ে তিনি জয় করে নিয়েছেন ১৯টি প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষা। অদম্য জেদ, কঠোর শৃঙ্খলা এবং লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠা যে সফলতার মূল চাবিকাঠি, তা চারুর জীবন থেকেই শিখছে আজকের তরুণ প্রজন্ম। তাঁর এই অবিস্মরণীয় কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ এবারের স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হবে।
বর্তমানে চারু চেন্নাইয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট অডিটর পদে কর্মরত। তবে তাঁর এই সাফল্যের যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। যে তালিকায় রয়েছে SSC CGL, SSC CHSL, IBPS PO, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI), SSC MTS এবং রেলওয়ের মতো একাধিক কঠিন পরীক্ষা। রাইপুরের সাধারণ পরিবারের মেয়ে চারুর ছোটবেলা থেকেই অঙ্ক ছিল ভীষণ প্রিয়। স্কুলে অঙ্ক পরীক্ষায় বরাবরই দারুণ ফলাফল করতেন তিনি। তবে সাফল্যের পেছনের মূল মন্ত্র হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন নিজের ধারাবাহিকতা ও কঠোর পরিশ্রমকে।
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে চারু জানান, তাঁর বাবা-মা চেয়েছিলেন তিনি যেন স্কুলের শিক্ষিকা বা অধ্যাপিকা হন। সেই পথে হাঁটার মানসিকতা থাকলেও, নিজেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তৈরি করেছিলেন চারু। পরিবারের পূর্ণ সমর্থন ছিল তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তে। চারুর কথায়, “আমি নিজেকে খুব মেধাবী ছাত্র মনে করতাম না। তবে আমি বিশ্বাস করি, সাফল্য কেবল প্রতিভা থেকে আসে না, আসে নিরন্তর অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলা থেকে।”
চেন্নাইয়ে চাকরির পাশাপাশি এই বিপুল পড়াশোনার চাপ সামলানো কি সহজ ছিল? চারু জানান, পরিশ্রমের পাশাপাশি নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও তিনি সমান যত্নশীল। যখনই পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপে ক্লান্ত বোধ করতেন, তিনি ৩০ মিনিটের জন্য হাঁটতে বেরিয়ে পড়তেন কিংবা পরিবারের সঙ্গে কিছুদিনের জন্য ঘুরতে যেতেন। রান্না করা এবং ঘুরতে যাওয়া—এই দুটি শখই তাঁকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখত।
তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না চারু। আগামী দিনে পিএইচডি করার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতে ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষার জন্যও নিজেকে প্রস্তুত করতে চান তিনি। ১৯টি সরকারি চাকরির পরীক্ষা পাশ করার এই অসাধ্য সাধন চারুকে শুধুমাত্র একটি সাফল্যের উদাহরণ নয়, বরং লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম করে তুলেছে। চারুর এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে গেলে পাহাড়সম বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।





