২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রীর সেই ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat 2047) সংকল্প বাস্তবায়িত করতে গেলে ভারতকে সবার আগে কোন দিকে নজর দিতে হবে? এই নিয়ে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্পষ্ট রিপোর্ট পেশ করল বিশ্বখ্যাত কনসালটেন্সি সংস্থা KPMG।
রিপোর্টে সাফ জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র জিডিপি (GDP) বৃদ্ধি করলেই চলবে না, ভারতকে প্রকৃত অর্থে ‘উন্নত’ হতে গেলে কয়েকটি নির্দিষ্ট স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে।
KPMG-এর রিপোর্টে যে বিষয়গুলোতে সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে:
১. মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি (Skill Development): KPMG-এর মতে, ভারতের সবথেকে বড় শক্তি হলো তার তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু ২০৪৭-এর লক্ষ্য ছোঁয়ার জন্য এই বিশাল জনশক্তিকে দক্ষ করে তোলা (Skilling) সবথেকে জরুরি। প্রথাগত শিক্ষার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিগত এবং ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারলে উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দেওয়া কঠিন হবে।
২. পরিকাঠামো ও লজিস্টিকস (Infrastructure & Logistics): ভারতের সাপ্লাই চেইন এবং পণ্য পরিবহনের খরচ কমানোর ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হতে গেলে আধুনিক বন্দর, হাইওয়ে এবং ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর তৈরিতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন।
৩. এনার্জি ট্রানজিশন ও স্থায়িত্ব (Green Energy): রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৪৭-এর ভারত হতে হবে পরিবেশবান্ধব। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গ্রিন হাইড্রোজেন এবং সৌরশক্তির মতো পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিতে স্বাবলম্বী হওয়া সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
৪. ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও সেমিকন্ডাক্টর: ভবিষ্যতের পৃথিবী চলবে প্রযুক্তির ওপর। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এবং এআই (AI) চালিত শিল্পে ভারতের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
কেন এই রিপোর্টটি গুরুত্বপূর্ণ? KPMG-এর ভারত প্রধানের মতে, ২০৪৭-এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব, যদি আগামী দুই দশক ভারত তার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করে। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, শহর ও গ্রামের মধ্যে আয়ের বৈষম্য দূর না করলে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যেতে পারে।
উপসংহার: KPMG-এর এই রিপোর্ট আসলে ভারত সরকারের জন্য একটি রোডম্যাপ। যেখানে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের মানুষের মানোন্নয়ন এবং আধুনিক পরিকাঠামোর ওপর।