২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বইতে শুরু করেছে উত্তপ্ত হাওয়া। আর এই রাজনৈতিক মহাযুদ্ধের এপিসেন্টার বা কেন্দ্রবিন্দু এখন শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগেই কি নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে শিলিগুড়ির মেয়রের রাজনৈতিক ভাগ্য? রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে এখন একটাই গুঞ্জন— এই নির্বাচনের পরেই কি কেরিয়ার শেষ হতে চলেছে মেয়রের?
লড়াই যখন শঙ্কর বনাম মেয়র: শিলিগুড়িতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপি ও শাসক শিবির। বিশেষ করে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের (Shankar Ghosh) ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং শাসক দলের অভ্যন্তরীণ দড়ি টানাটানি এই আসনটিকে কার্যত অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের লড়াই শুধুমাত্র ক্ষমতা দখলের নয়, বরং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার।
কেন এই ‘কেরিয়ার শেষ’ হওয়ার আশঙ্কা? সূত্রের খবর, মেয়রের পারফরম্যান্স এবং সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। বিরোধী শিবিরের দাবি, ২০২৬-এর নির্বাচনে যদি মেয়র শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন, তবে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তলানিতে এসে ঠেকবে।
-
অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর: দীর্ঘদিনের মেয়রের পদে থাকার কারণে জনমানসে তৈরি হওয়া ক্ষোভ কি ব্যালট বক্সে প্রতিফলিত হবে?
-
শঙ্কর ঘোষের চ্যালেঞ্জ: গত কয়েক বছরে শঙ্কর ঘোষ যেভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিজের জমি শক্ত করেছেন, তাতে মেয়রের পক্ষে লড়াইটা বেশ কঠিন হতে চলেছে।
রাজনৈতিক মহলের নজর: শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। আর এই শহরের ক্ষমতার চাবিকাঠি যাঁর হাতে থাকবে, উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে তাঁর দাপট থাকবে একছত্র। কিন্তু ২০২৬-এর এই মহারণ কি মেয়রের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ইতি টেনে দেবে, নাকি তিনি আবার ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠবেন— তা নিয়েই এখন শিলিগুড়ির চায়ের আড্ডায় চলছে জোর চর্চা।