মানব সভ্যতার ইতিহাসে গত ১১টি বছর (২০১৫-২০২৫) এক বিভীষিকার নাম। পরিসংখ্যান বলছে, এই এক দশকে পৃথিবী যে পরিমাণ উষ্ণ হয়েছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছে, তা গত কয়েক শতাব্দীতে দেখা যায়নি। ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বনেতারা শপথ নিয়েছিলেন পৃথিবীকে শান্ত করার, কিন্তু ২০২৫-এ দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে বাস্তবতা তার ঠিক উল্টো।
রেকর্ড ভাঙা উষ্ণতা: নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে প্রতিটি বছরই ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম বছরের তালিকায়। বিশেষ করে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করেছে। এর ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে আশঙ্কাজনক হারে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রকৃতির রুদ্ররূপ: এই ১১ বছরে বিশ্ব দেখেছে আমাজন ও অস্ট্রেলিয়ার ভয়াবহ দাবানল, একের পর এক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় এবং ইউরোপ-এশিয়ার নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাব এবং লাগামহীন কার্বন নিঃসরণ পৃথিবীকে একটি ‘টিপিং পয়েন্ট’-এর দিকে ঠেলে দিয়েছে। খরা ও বন্যার ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট এবং জলসংকট তীব্রতর হয়েছে।
এই ১১ বছরের খতিয়ান কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের জন্য শেষ সতর্কবার্তা। যদি এখনই বিকল্প জ্বালানি এবং পরিবেশ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আগামী দশকটি আরও ভয়াবহ হতে চলেছে।