সোমবার ফের উত্তেজনা ছড়াল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরের সামনে। একদিকে যেমন বিএলও (BLO) বা বুথ লেভেল অফিসারদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশনে বৈঠকের জন্য পৌঁছলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি বিধায়করা।
বিক্ষোভ ও স্লোগান:
বিজেপি বিধায়করা সিইও অফিসে পৌঁছানোর আগেই ‘তৃণমূলপন্থী’ হিসেবে পরিচিত ‘বিএলও অধিকার মঞ্চ’-এর সদস্যরা সেখানে এসে উপস্থিত হন। তাঁদের মূল দাবি ছিল:
মৃত বিএলওদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের (SIR) জন্য সময়সীমা ৭ দিন নয়, ২ মাস বাড়াতে হবে।
বিজেপি বিধায়ক ও বিক্ষোভকারী বিএলও-রা মুখোমুখি হতেই পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে। স্লোগান-পাল্টা স্লোগান চলতে থাকে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের চরম ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ ব্যারিকেড দিলে, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেডের ওপর উঠে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সেই উত্তেজনার মধ্যেই ভেতরে প্রবেশ করেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিএলওদের ক্ষোভ:
এক বিক্ষোভকারী বিএলও বলেন, “আমাদের সময়সীমা বাড়াতে হবে। যাঁদের প্রাণ গিয়েছে, তাঁদের পরিবারের কী হবে, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।” আরেক শিক্ষিকা বলেন, “বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে যে অত্যাচার চালাচ্ছে, তার প্রতিবাদে সামিল হয়েছি। ৭ দিনের জন্য সময় বাড়ানো হয়েছে, তাতে দু’টুকরো ছেঁড়া রুটি ফেরার মতো। ২ বছরের কাজ এভাবে ২ মাসে শেষ করা সম্ভব নয়। ২ মাস যাতে সময় বাড়ানো হয়, তার জন্য এখানে এসেছি।”
এক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা প্রশ্ন তোলেন, “এইভাবে স্কুলগুলো থেকে শিক্ষিকাদের তুলে নিয়ে যে কাজ করা হচ্ছে, স্কুলগুলো কীভাবে চলবে? কোনও পরিকল্পনা ছাড়া কাজ হচ্ছে।”
বর্তমানে সিইও দফতরের বাইরে বিক্ষুব্ধ বিএলও-দের বিক্ষোভ চলছে, অন্যদিকে ভেতরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করছেন শুভেন্দু অধিকারী। দফতরের সামনের রাস্তা অবরুদ্ধ, পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং আরএএফ (RAF)।