ফের সংঘাতের কেন্দ্রে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)। এবার সেই সংস্থার অফিসে তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আজ বিকেলেই এই মামলার জরুরি শুনানি হওয়ার কথা। তবে শুনানির আগেই বোমা ফাটালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কী দাবি শুভেন্দুর?
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, দুর্নীতির বিপুল পরিমাণ টাকা আইপ্যাকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছেছে। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, “দুর্নীতির অন্তত ১৬ কোটি টাকা আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে।” শুভেন্দুর এই চাঞ্চল্যকর দাবি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তদন্তে অসহযোগিতা করে আসলে বড় কোনো তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কেন আদালতের দ্বারস্থ ইডি?
ইডি সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। কিন্তু সেখানে তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপরই সময় নষ্ট না করে ইডি সরাসরি হাইকোর্টে গিয়ে মামলার অনুমতি চায়। বিচারপতি এই মামলার গুরুত্ব বুঝে আজ দুপুরেই শুনানির সময় দিয়েছেন।
কেন এই তল্লাশি?
রাজ্যের একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি ও আর্থিক তছরুপের মামলার তদন্তে নেমে বারংবার বিভিন্ন সংস্থার নাম উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করা আইপ্যাকের আর্থিক লেনদেনের মধ্যে কোনো অস্বচ্ছতা থাকতে পারে। যদিও আইপ্যাক বা শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আদালতের রায়ের ওপর এখন নির্ভর করছে আইপ্যাক অফিসে ইডি কবে এবং কীভাবে অভিযান চালাবে। শুভেন্দুর ১৬ কোটির অভিযোগ সত্যি হলে, তদন্তের মোড় কোন দিকে ঘোরে সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।