পাঞ্জাবে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক এক বছর আগে রাজ্যের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল। শিখ ধর্মগ্রন্থ শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহেবের অবমাননা বা ‘বেয়াদবি’ রুখতে পাস হওয়া নতুন একটি আইনকে কেন্দ্র করে এখন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টি (AAP) সরকার এবং শিখদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পীঠস্থান অকাল তখতের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি পাঞ্জাব বিধানসভায় ‘দ্য জাগত জোত শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহেব সৎকার (সংশোধনী) আইন ২০২৬’ পাস হয়েছে। এই আইনের বেশ কিছু ধারাকে ‘আপত্তিকর’ এবং শিখ ধর্মের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরকারি হস্তক্ষেপ বলে দেগে দিয়েছে অকাল তখত। গত ৮ মে অকাল তখতের প্রধান কুলদীপ সিং গরগজ রাজ্য সরকারকে এক নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওই বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধন বা প্রত্যাহার না করলে পাঞ্জাব সরকারের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ধর্মীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।
অকাল তখতের মূল অভিযোগ হলো, শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটি (SGPC)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ শিখ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই আইন পাস করিয়েছে মান সরকার। বিশেষ করে গুরু গ্রন্থ সাহেবের পবিত্র প্রতিলিপি বা ‘বীর’ কার কার বাড়িতে রয়েছে, সেই তথ্য জনসমক্ষে আনার সরকারি নিয়মটির তীব্র বিরোধিতা করেছে অকাল তখত। তাঁদের আশঙ্কা, ভক্তদের এই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হলে শিখ-বিরোধী শক্তিরা তার অপব্যবহার করতে পারে এবং শিখদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত হানতে পারে।
তবে অকাল তখতের এই সময়সীমা ও চরম হুঁশিয়ারিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। শনিবার এক কড়া বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “কোনও অবস্থাতেই এই বেয়াদবি বিরোধী আইন ২০২৬ প্রত্যাহার করা হবে না।” রাজ্যপালের সই হওয়ার পর এই আইন এখন কার্যকর এবং এটি শিখ সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বলেই তিনি দাবি করেন। উল্টে এই বিরোধিতার পিছনে শিরোমণি আকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদলের হাত দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাদল পরিবার নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে অকাল তখতের জাঠেদারদের ব্যবহার করছে। বর্তমানে এই আইনের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যজুড়ে ‘শুকরানা যাত্রা’ করছেন, যাকে অকাল তখত প্রধান ‘অহংকার যাত্রা’ বলে কটাক্ষ করেছেন। পাঞ্জাব বিধানসভার স্পিকার কুলতার সিং সান্ধওয়ানকে অকাল তখতে তলব করে ধারাগুলো সরানোর জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, ১৫ দিন পর অকাল তখত কোনও কঠোর ফতোয়া জারি করলে পাঞ্জাবে রাজনৈতিক সংকট কোন পর্যায়ে পৌঁছায়।





