১৩ দেশের কবি, ১৬টি ভাষা! ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব’-এর অষ্টম সংস্করণ সমাপ্ত, কবিতায় ঐক্যবদ্ধতার বার্তা

গত ২৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া তিন দিন ব্যাপী ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব’-এর অষ্টম সংস্করণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে কলকাতা আবারও বিশ্ব কবিতার অন্যতম প্রধান মঞ্চ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করল। চেয়ার লিটারেরি ট্রাস্টের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১৩টি দেশের কবিরা ১৬টি ভিন্ন ভাষায় তাঁদের রচনা উপস্থাপন করেন।

উৎসবের উদ্বোধনী সন্ধ্যাটি ছিল মনোমুগ্ধকর, যেখানে ঊর্মি চৌধুরী, সোহিনী মুখোপাধ্যায়-সহ প্রজ্ঞা দত্তের লোকজ ও ফিউশন সঙ্গীতের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রথম দিনেই কবিতা পাঠ করেন বিশ্বখ্যাত কবিরা। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—সুজান রিচ, সাইমন আর্মিটেজ, মোনা আরশি, সাশা দেবেভেক-ম্যাককেনি, মাদারা গ্রান্টম্যান, এফে ডুয়ান, মেলানি লেব্ল্যাঁ, রাকা দাশগুপ্ত, পিটার ভারহেলস্ট, গুরতেজ কোহারওয়ালা, লরা জিওর্দানি, শিরীষ মৌর্য, জ্যোতি শোভা, ফেলিপ জুয়ারিস্তি এবং রাকেল সান্তানেরা। কবিতা উপস্থাপনের পর সেগুলির ইংরেজি অনুবাদও করা হয়।

নতুন বই উন্মোচন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা:

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে চেয়ার পোয়েট্রি বুকস থেকে দুটি নতুন শিরোনাম—এফে ডুয়ানের ‘বাগদাদের ইতিহাস’ এবং ভ্লাদিমির কর্কুনভের ‘লস্ট অ্যান্ড রিকভারড লাইট’—উন্মোচন করা হয়।

ইভেন্টের পরিচালক সনেট মণ্ডল বলেন, “যুদ্ধ এবং সঙ্কুচিত স্বাধীনতার অন্ধকার যুগে, কবিতা আশ্রয় দেয়। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা কল্পনার প্রতি বিশ্বাস এবং আমাদের ঐক্যবদ্ধ বন্ধনগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার আশা করি।” অপর পরিচালক তুষার ধাওয়াল সিং বলেন, “কবিতা এখনও প্রতিরোধের একটি নীরব পদক্ষেপ – সহিংসতা এবং উদাসীনতার বিরুদ্ধে মানবতার কণ্ঠস্বর।”

ভারতীয় ভাষা পরিষদ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে ডাচ ফাউন্ডেশন ফর লিটারেচার, ফ্ল্যান্ডার্স লিটারেচার (বেলজিয়াম), ইনস্টিটিউটো সার্ভান্তেস-সহ স্পেন ও ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা সহায়তা করেছে। গত আট বছরে ত্রিশটিরও বেশি দেশের কবিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy