৫ই আগস্টের পর এই প্রথম। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে ভারতের মাটি থেকে সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন নির্বাসিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসনকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে দেশবাসীকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইউনূসকে তীব্র আক্রমণ: “ক্ষমতালোভী ষড়যন্ত্রকারী”
ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার একটি প্রাক-রেকর্ড করা অডিও বার্তা শোনানো হয়। সেখানে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ক্ষোভ উগরে দেন। হাসিনা বলেন, “একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমার সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। ইউনূস এবং রাষ্ট্রবিরোধী উগ্রবাদীরা মিলে বাংলাদেশকে এখন এক সন্ত্রাসের যুগে ঠেলে দিয়েছে।” ড. ইউনূসকে ‘দুর্নীতিবাজ’ ও ‘ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও জাতিসংঘের তদন্ত দাবি
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সমাজের সবথেকে দুর্বল শ্রেণির মানুষের জন্য ‘লোহার বর্মের মতো’ কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করে দেশে প্রকৃত শান্তি ফেরাতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
ভোটের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ
আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে আওয়ামী লীগকে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর আধিপত্যের এই নির্বাচনে নিজের দলকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক রাখতেই শেখ হাসিনা এই রণকৌশল নিয়েছেন।
শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইউনূস প্রশাসন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ অক্ষম। তাই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এই ‘অবৈধ’ সরকারকে হটানোর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের বহু শীর্ষ নেতা ভারত ও ইউরোপে নির্বাসিত থাকলেও, তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতেই হাসিনার এই ‘ভার্চুয়াল’ উপস্থিতি বলে মনে করা হচ্ছে।