শুক্রবার সকালের শান্ত ছবিটা নিমেষেই বদলে গেল বিভীষিকায়। দিল্লির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় এক বিলাসবহুল আবাসনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। নয়ডার সেক্টর ৭৪-এ অবস্থিত অভিজাত ‘আইভি কাউন্টি’ সোসাইটিতে আজ সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আগুন লাগে। টাওয়ার এ-র ১২ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আক্রান্ত ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে আগুনের লেলিহান শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়া বেরিয়ে আসতে দেখে আবাসনের বাসিন্দারা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। ধোঁয়ার কুণ্ডলী এতটাই বিশাল ছিল যে তা অনেক দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল। বহুতল আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উদ্বেগ। প্রাণ বাঁচাতে বাসিন্দারা দ্রুত আবাসনের নিচে নেমে আসেন।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দমকল, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন যাতে দ্রুত অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন একযোগে কাজ শুরু করে। উদ্ধারকাজে গতি আনতে এসডিআরএফ (SDRF)-এর বিশেষ দলকে কাজে লাগানো হয়। শুধু আক্রান্ত টাওয়ার নয়, আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় আশপাশের টাওয়ারের বাসিন্দাদেরও সতর্ক করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়।
প্রশাসন সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনও মৃত্যু বা আহতের খবর নেই। সেক্টর ১১৩ থানার পুলিশ পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে। দমকলকর্মীদের দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে কীভাবে এই ভয়াবহ আগুন লাগল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। শর্ট সার্কিট বা কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রায় দু’বছর আগে নির্মিত এই বিলাসবহুল আবাসনে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন এই বিপত্তি ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, উঁচু তলার ফ্ল্যাটে আগুন নেভাতে দমকল কর্মীদের যে বেগ পেতে হয়েছে, তা বহুতলগুলির অগ্নি-নির্বাপক পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শুরুর দিকে জল পৌঁছে দিতে কর্মীদের বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পুরো ঘটনার উপর নজর রাখছেন। তিনি জেলা প্রশাসনকে দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করার এবং আক্রান্তদের সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। আগুন সম্পূর্ণ না নেভা পর্যন্ত ওই এলাকায় নজরদারি চলবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত।





