এল নিনোর ভ্রুকুটি আর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কেরলে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। বৃহস্পতিবার ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, কেরলে বর্ষার আগমন ঘটেছে। সাধারণত ১ জুন নাগাদ বর্ষা কেরলে পৌঁছালেও, এবার কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২৬ মে বর্ষা আসার কথা থাকলেও, প্রায় ১০ দিন দেরিতে রাজ্যে ঢুকল মৌসুমী বায়ু। বর্ষার এই প্রবেশ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী ঋতুর (জুন-সেপ্টেম্বর) সূচনা হিসেবে গণ্য হয়।
আইএমডি জানিয়েছে, ৪ জুন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু তার গতিপথ বিস্তৃত করে আরব সাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বের অবশিষ্ট অংশ, পশ্চিম-মধ্য ও পূর্ব-মধ্য আরব সাগরের কিছু অংশ এবং সমগ্র লাক্ষাদ্বীপপুঞ্জে পৌঁছেছে। এছাড়া কেরল, মাহে, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশ এবং বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম, পশ্চিম-মধ্য, পূর্ব-মধ্য ও উত্তর-পূর্বের বড় একটি অংশে এই বায়ু বিস্তার লাভ করেছে।
বর্ষা ঢোকার পরপরই কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর কেরলজুড়ে ভারী ও বজ্র-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে। ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় রাজ্যের আটটি জেলা—তিরুঅনন্তপুরম, কোল্লাম, পাথানামথিট্টা, আলাপ্পুঝা, কোট্টায়ম, এর্নাকুলাম, ইডুক্কি এবং ত্রিশূরে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি পালক্কাড়, মালাপ্পুরম, কোঝিকোড়, ওয়ানাদ, কান্নুর এবং কাসারগড় জেলায় ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। আগামী রবিবার পর্যন্ত এই ব্যাপক বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টায় ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও প্রবল বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বর্ষা এলেও এবারের বৃষ্টিপাত নিয়ে চিন্তার ভাঁজ বিশেষজ্ঞদের কপালে। আইএমডি-র ঋতুভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদী গড়ের (LPA) তুলনায় কম হতে পারে। এবারের LPA-এর প্রায় ৯০ শতাংশ বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কম বৃষ্টিপাতের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে ‘এল নিনো’ (El Nino) পরিস্থিতির সক্রিয় হওয়া। নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এনসো (ENSO) পরিস্থিতি ধীরে ধীরে এল নিনোর দিকে মোড় নিচ্ছে। আইএমডি-র পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জুনে এল নিনো দুর্বল থাকলেও সেপ্টেম্বর নাগাদ এটি মাঝারি থেকে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের তথ্যের ভিত্তিতে দেশের ঋতুভিত্তিক বৃষ্টিপাতের দীর্ঘমেয়াদী গড় (LPA) নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭ সেন্টিমিটার। মৌসুমী ঋতুতে যদি বৃষ্টিপাত এই গড়ের ৯০ শতাংশের নিচে নামে, তবে তাকে ‘ঘাটতিপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এখন দেখার বিষয়, এল নিনোর এই প্রভাব মোকাবিলা করে বর্ষা কতটা স্বস্তি দেয় দেশবাসীকে।





