হ্যাক করা যাবে না ভারতীয় ড্রোন! সেনার শক্তিবৃদ্ধিতে ‘সিকিওর বাই ডিজাইন’ নীতি, কী এই নতুন ছক?

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এখন অপরিহার্য। কিন্তু ড্রোনের মাধ্যমে তথ্য চুরি বা হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে সমানতালে। এই বিপদ রুখতে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আরও অপরাজেয় করে তুলতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ড্রোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রকাশ করা হয়েছে ৩৪ পৃষ্ঠার একটি নতুন পরীক্ষা কাঠামো বা ‘ড্রাফ্ট গাইডলাইন’।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে প্রতিটি ড্রোনকে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার—উভয় স্তরেই কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘পেনিট্রেশন টেস্ট’, এনক্রিপশন যাচাই এবং ফার্মওয়্যার সিকিউরিটি। মূল লক্ষ্য হলো, শত্রুপক্ষ যাতে জিপিএস জ্যামিং বা স্পুফিংয়ের মাধ্যমে ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে না পারে। মূলত ফ্লাইট কন্ট্রোলার, সেন্সর এবং গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সফটওয়্যারের মতো অতি সংবেদনশীল অংশগুলোকে হ্যাকিং মুক্ত রাখতেই এই কড়াকড়ি।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো চিনা যন্ত্রাংশের ওপর নিষেধাজ্ঞা। ইতিপূর্বে চিনা পার্টস থাকায় বেশ কিছু ড্রোনের চুক্তি বাতিল করেছে সেনা। এখন থেকে কোম্পানিগুলিকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে যে তাদের ড্রোনে কোনও চিনা চিপ বা ক্ষতিকারক কোড নেই। আপাতত ছোট ও মাঝারি ড্রোনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম চালু হলেও, ভবিষ্যতে বড় ঘাতক ড্রোনের ক্ষেত্রেও এটি বাধ্যতামূলক করা হবে। ‘সিকিওর বাই ডিজাইন’ কৌশলের মাধ্যমে ভারত এখন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy