হোলি ২০২৬: রঙের নিচে লুকিয়ে কত শত ইতিহাস! উত্তর থেকে দক্ষিণ, ভারতের বৈচিত্র্যময় দোল উৎসবের সাতকাহন

বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে ভারতে হাজির রঙের উৎসব হোলি। তবে ভারত যে বৈচিত্র্যের দেশ, তা এই উৎসবের পরতে পরতে ধরা পড়ে। আমাদের দেশে হোলি মানে কেবল আবির আর রঙের লড়াই নয়; প্রদেশ ভেদে এর রূপ, নাম এবং রীতি বদলে যায় আমূল। উত্তরপ্রদেশের ব্রজভূমি থেকে শুরু করে সুদূর মণিপুর বা গোয়ার সৈকত— প্রতিটি জায়গার হোলি তার নিজস্ব ঐতিহ্যে ভাস্বর।

উত্তরপ্রদেশের বারসানা ও নন্দগাঁওয়ের ‘লাঠমার হোলি’ পৃথিবী বিখ্যাত। এখানে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলাকে স্মরণ করে মহিলারা লাঠি দিয়ে পুরুষদের মারধর করেন এবং পুরুষরা ঢাল দিয়ে তা আটকান। আবার মথুরা-বৃন্দাবনে চলে ‘ফুলোঁ কি হোলি’, যেখানে রঙের বদলে ব্যবহৃত হয় সুগন্ধি ফুলের পাপড়ি। অন্যদিকে, পাঞ্জাবে নিহঙ্গ শিখরা পালন করেন ‘হোলা মহল্লা’। এখানে রঙের বদলে বীরত্ব প্রদর্শন ও রণকৌশলের প্রদর্শনীই মুখ্য। আবার গোয়ার ‘শিগমো’ উৎসবে দেখা যায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও লোকনৃত্য। পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবর্তিত ‘বসন্ত উৎসব’ এক অন্য ধারার সাংস্কৃতিক মিলনমেলা, যা মূলত গান ও নৃত্যের মাধ্যমে পালিত হয়। মণিপুরের ‘ইয়াওশাং’ উৎসব আবার পাঁচ দিন ধরে চলে, যার অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘থাবল চোংবা’ নৃত্য। ভারতের এই বৈচিত্র্যময় হোলি উৎসবই প্রমাণ করে যে, ভিন্ন ভিন্ন রীতি থাকলেও আনন্দের রঙ সর্বত্রই এক।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy