বঙ্গযুদ্ধের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু এখন নন্দীগ্রাম। সেই বহুপ্রতীক্ষিত কেন্দ্রে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন হলদিয়ায় মহকুমা শাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে শক্তিপ্রদর্শন করেন তিনি। মনোনয়ন পর্ব মিটিয়েই আত্মবিশ্বাসী মেজাজে শুভেন্দু দাবি করেন, নন্দীগ্রামে তাঁর জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা এবং শুধু নন্দীগ্রাম নয়, খাস ভবানীপুরেও ধরাশায়ী হবে তৃণমূল।
এদিন সকাল থেকেই হলদিয়া চত্বরে সাজ সাজ রব ছিল। শঙ্খধ্বনি ও ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির মাঝে শুভেন্দু অধিকারীর হুডখোলা জিপে বর্ণাঢ্য মিছিলে সামিল হন কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্রকেই মানুষ বেছে নেবেন। বহিরাগতদের এখানে কোনো স্থান নেই।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, নন্দীগ্রামের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, বরং তা ছিল সাধারণ মানুষের লড়াই।
তবে শুভেন্দুর নিশানায় শুধু নিজের কেন্দ্র ছিল না। তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল নিয়েও বড়সড় ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারবেনই, কিন্তু ভবানীপুরেও বিজেপি প্রার্থী জয়ী হবেন। সাধারণ মানুষ এবার পরিবর্তনের জন্য তৈরি।” শুভেন্দুর এই জোড়া জয়ের দাবি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ভবানীপুর থেকে তৃণমূল সুপ্রিমোর পুরনো যোগসূত্র থাকলেও, শুভেন্দু মনে করেন সেখানেও মানুষের মেজাজ বিজেপির অনুকূলে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় শুভেন্দুর পাশে দেখা গেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। তাঁদের উপস্থিতিতে শুভেন্দু কার্যত বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, দিল্লি এই লড়াইকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রামের লড়াই এখন আর শুধু একটি আসনের লড়াই নেই, এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যক্তিগত মান-সম্মান ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। শুভেন্দু অধিকারীর আজকের এই আত্মবিশ্বাসী মনোনয়ন জমা দেওয়া ও ভবানীপুর নিয়ে তাঁর দাবি শাসক শিবিরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল বলেই মনে করা হচ্ছে।