হুমকির মুখে বিশ্বকাপ! উত্তর আমেরিকার আবহাওয়া কি ভেস্তে দেবে মেসির শেষ লড়াই?

ফুটবল জ্বরে কাঁপছে বিশ্ব, কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের দুয়ারে দাঁড়িয়ে এখন উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে আয়োজিত হতে চলা এই মেগা টুর্নামেন্টে ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত, তীব্র গরম এবং চরম আর্দ্রতার কারণে একাধিক ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন এই সতর্কতা? জলবায়ু গবেষকদের মতে, জুন-জুলাই মাসে উত্তর আমেরিকার আবহাওয়া খুবই অস্থির থাকে। ১০৪টি ম্যাচের এই বিশাল টুর্নামেন্টে বজ্রঝড় থেকে শুরু করে টর্নেডোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সমীক্ষা বলছে, টুর্নামেন্টের প্রায় ৯৭টি ম্যাচই খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

বজ্রপাত নিয়ে ফিফার কড়া নিয়ম: দর্শকদের নিরাপত্তা ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ফিফা একগুচ্ছ নতুন নিয়ম জারি করেছে। কোনো স্টেডিয়ামের ৮ মাইলের (প্রায় ১৩ কিমি) মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হলেই ম্যাচ সাথে সাথে বন্ধ রাখা হবে। পুনরায় খেলা শুরুর জন্য অন্তত ৩০ মিনিট আকাশ পরিষ্কার থাকার শর্ত রাখা হয়েছে। এই নিয়মের ফলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা প্রয়োজনে পরের দিন পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কোন শহরগুলো? বিশেষজ্ঞদের মতে, কানসাস সিটি, আটলান্টা এবং ডালাসে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, মিয়ামি এবং হিউস্টনের মতো উপকূলবর্তী শহরগুলোতে অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতা ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মেক্সিকোর মনতেরেতেও তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রবল।

পরিস্থিতি সামলাতে ফিফার উদ্যোগ: এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিফা প্রত্যেকটি ম্যাচে বাধ্যতামূলক ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, যেসব শহরে তাপমাত্রার পারদ বেশি থাকে, সেখানে দুপুরের পরিবর্তে বিকেল বা সন্ধ্যায় ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে।

যদিও ফিফা কর্তৃপক্ষ এবং আয়োজক দেশগুলি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী, তবুও প্রকৃতির অমোঘ নিয়মের সামনে বিশ্বকাপ কতখানি মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy