হুথিদের মিসাইল বৃষ্টিতে কাঁপল ইজরায়েল! পালটা ইরানে বিধ্বংসী হামলায় রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের রণভূমি এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সাক্ষী হলো। রবিবার সকাল থেকেই ইজরায়েলের বুক লক্ষ্য করে ধেয়ে এসেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র। এই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই পালটা হুঙ্কার দিয়ে সরাসরি ইরানের ওপর ইতিহাসের বৃহত্তম বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি বায়ুসেনা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক দশকের মধ্যে এক দিনে ইরানের ওপর এত বড় মাপের আক্রমণ আর দেখা যায়নি।

ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (IDF) জানিয়েছে, লোহিত সাগর পার হয়ে হুথিদের ছোঁড়া বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইজরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। যদিও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘অ্যারো’ এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিয়েছে, তবুও তেল আভিভসহ একাধিক শহরে সাইরেনের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুথিদের দাবি, গাজায় ইজরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদেই এই ‘বৃহত্তম’ হামলা চালানো হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানজুড়ে শুরু হয় ইজরায়েলের ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। তেহরান, ইসফাহান এবং সিরাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সামরিক ঘাঁটি ও ড্রোন তৈরির কারখানা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি শুরু করে ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান। ইজরায়েলের দাবি, ইরানই হুথিদের এই হামলার নেপথ্যে মূল কারিগর, তাই সরাসরি ‘উৎস’ নির্মূল করতেই এই অভিযান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় বেশ কিছু সামরিক পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। এক দিনে এত ব্যাপক প্রাণঘাতী হামলা এর আগে ইরান দেখেনি। এই ঘটনার পর গোটা বিশ্বে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy