আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিণিকি ভূঁইয়া শর্মাকে নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আইনি লড়াইয়ে বড়সড় স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর প্রেক্ষিতে পবনকে আগাম জামিন দিল উচ্চ আদালত।
কী সেই বিতর্কিত মন্তব্য?
কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরা দাবি করেছিলেন যে, আসামের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিণিকি শর্মা এক সঙ্গে তিনটি দেশের নাগরিকত্ব বহন করছেন। এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। একজন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যকে নিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর দাবিতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপি সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
গ্রেফতারির আশঙ্কায় পবন খেরা আদালতের দ্বারস্থ হন। শুনানির পর আদালত পবন খেরার আগাম জামিন মঞ্জুর করে। আদালতের পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তে তাঁকে ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেওয়া হচ্ছে। এই আদেশের ফলে আপাতত বড়সড় আইনি গেরো থেকে মুক্তি পেলেন এই কংগ্রেস নেতা।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, পবন খেরা কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই একজন মহিলার সম্মানহানি করেছেন এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে, পবনের আইনজীবীদের দাবি ছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই মামলা সাজানো হয়েছে।
হিমন্ত-পবন সংঘাতের ইতিহাস
এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নাম বিকৃত করার অভিযোগে পবন খেরাকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করেছিল আসাম পুলিশ। সেই সময়ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে জামিন পেয়েছিলেন তিনি। এবার তাঁর স্ত্রীর নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে আবারও এই দুই নেতার সংঘাত আইনি লড়াইয়ের রূপ নিল।
আপাতত আদালতের এই রায়ে পবন খেরা কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে আসাম ও জাতীয় রাজনীতিতে চাপানউতোর অব্যাহত।





