অসমের রাজনীতিতে আবারও এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটালেন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (AIUDF) প্রধান তথা সাংসদ বদ্রুদ্দিন আজমল। কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে গোপন সমঝোতার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেছেন, কংগ্রেস কার্যত বিজেপিকে “১০০ শতাংশ ওয়াকওভার” দিচ্ছে। আজমলের এই মন্তব্য আসন্ন নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরে এক বড়সড় ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে।
কংগ্রেস-বিজেপি ‘বোঝাপড়া’র বিস্ফোরক দাবি
গুয়াহাটিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আজমল সরাসরি আক্রমণ শানান কংগ্রেসের দিকে। তিনি বলেন, “কংগ্রেস বিজেপিকে জেতাতে উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের মধ্যে একটা তলে তলে বোঝাপড়া আছে। আমি খোলাখুলিই বলছি, তারা চায় বিজেপি আবারও ক্ষমতায় ফিরুক।” বিরোধী জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তাঁর এই প্রশ্ন তোলা জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
“মুসলিমরা এখন আগের চেয়ে বেশি নিরাপদ”
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে যখন দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে, তখন সম্পূর্ণ উল্টো সুর শোনা গেল আজমলের গলায়। তিনি বলেন:
“ভারতের মুসলিমরা এখন অনেক ভালো আছেন। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই দেশের হিন্দু ভাইয়েরা সবসময় মুসলিমদের পাশে আছেন।”
এমনকি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ‘মিঁয়া’ কেন্দ্রিক মন্তব্যের জবাবেও তিনি সহাবস্থানের বার্তা দিয়ে বলেন, যে রাজনীতিতে বিভেদ তৈরির চেষ্টা হলেও সাধারণ মানুষ শান্তিতে ও সম্প্রীতির মধ্যেই বসবাস করছে।
মুসলিম ভোটারদের কড়া হুঁশিয়ারি
সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা দিলেও রাজনৈতিক অবস্থানে তিনি ছিলেন চরম অনড়। মুসলিম ভোটারদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “একজন মুসলিমেরও বিজেপিকে ভোট দেওয়া উচিত নয়।” যদি কেউ তা করেন, তবে তা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজমলের এই বক্তব্য এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো। একদিকে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি নিজেকে সংখ্যালঘুদের প্রধান রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছেন, অন্যদিকে হিন্দুদের নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করে সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল নিয়েছেন। অসমের মতো রাজ্যে, যেখানে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নির্বাচনের ভাগ্য গড়ে দেয়, সেখানে আজমলের এই বার্তা নিশ্চিতভাবেই বিজেপি-কংগ্রেস উভয় শিবিরকেই চাপে ফেলবে।