দেশের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক সংস্থা নীতি আয়োগের কাঠামোয় বড়সড় রদবদল ঘটালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে দুই নতুন পূর্ণকালীন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই সংস্থায়। নতুন এই তালিকায় রয়েছেন ডঃ আর. বালাসুব্রামানিয়ান এবং ডঃ জোরাম আনিয়া। বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশের ডঃ জোরাম আনিয়ার এই নিয়োগ জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পাহাড় থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে: ডঃ জোরাম আনিয়ার উত্থান
অরুণাচল প্রদেশের নিশি সম্প্রদায়ের মেয়ে ডঃ জোরাম আনিয়ার এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। তিনি প্রথম নিশি নারী হিসেবে পিএইচডি অর্জন করার পাশাপাশি রাজ্যের প্রথম মহিলা হিসেবে হিন্দিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভের কৃতিত্ব গড়েছেন। একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘ ১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি শিক্ষা ও জননীতি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন।
অরুণাচল প্রদেশ বেসরকারি শিক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিশনের সদস্য হিসেবে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও তাত্ত্বিক জ্ঞানের এই মেলবন্ধন এবার জাতীয় স্তরে ভারতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরিতে ব্যবহৃত হবে। মনে করা হচ্ছে, ডঃ আনিয়ার অন্তর্ভুক্তিতে দেশের নীতি প্রণয়নে উত্তর-পূর্ব ভারতের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হবে।
প্রশাসনে পেশাদারিত্বের ছোঁয়া: বি.ভি.আর. সুব্রামানিয়াম
নীতি আয়োগের এই নতুন যাত্রায় সঙ্গী হয়েছেন দক্ষ আমলা বি.ভি.আর. সুব্রামানিয়াম। তিনি সংস্থাটির নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। প্রাক্তন সিইও পরমেশ্বরন আইয়ার বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে নিযুক্ত হওয়ার পর সুব্রামানিয়াম তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
১৯৮৭ ব্যাচের ছত্তিশগড় ক্যাডারের এই আইএএস কর্মকর্তা লন্ডন বিজনেস স্কুলের প্রাক্তনী। প্রশাসনিক স্তরে তাঁর অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্য সচিব এবং আইটিপিও-র চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের রেকর্ড অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সফল।
বাস্তবমুখী নীতি প্রণয়নের লক্ষ্য
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বাস্তবমুখী ও জনমুখী নীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্য। শুধুমাত্র চার দেয়ালের ভেতরে বসে বা নথিপত্র দেখে যে কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, তা ডঃ আনিয়ার মতো মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগে স্পষ্ট। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক সংস্কারের সমন্বয়ে নীতি আয়োগ এবার এক নতুন দিশা পেতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





