বাংলার রাজনীতিতে ফের এক বার সংঘাতের আবহ। এবার ইস্যু ‘সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট’ বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা। এই তালিকা নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই তালিকার আড়ালে সুপরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এদিন আক্রমণাত্মক মেজাজে মমতা বলেন, “হিটলার-টিটলার ভুলে যান, এখন যা হচ্ছে তা আরও ভয়ঙ্কর। বেছে বেছে মানুষের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া। মমতার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় কারচুপি করার চেষ্টা চলছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার এই প্রচেষ্টা বাংলা বরদাস্ত করবে না। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা এবং নির্দিষ্ট কিছু পকেটে যে ভাবে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী তাঁর কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ‘হিটলার’ মন্তব্য করে আসলে বর্তমান কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থাকে একনায়কতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করতে চেয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যদি ভোটার তালিকায় কারচুপি করে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়, তবে তৃণমূল কংগ্রেস রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে। ভোটার কার্ডের সাথে আধার কার্ড সংযোগ বা নথিপত্র যাচাইয়ের নামে সাধারণ মানুষকে যাতে হেনস্থা হতে না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার কথা বলেছেন তিনি। এই ইস্যুতে রাজ্য বনাম কেন্দ্র সংঘাত যে আরও বাড়বে, তা এখন নিশ্চিত।





