হায়দরাবাদ থেকে বিশ্বজয়! ৩০ বছরে ‘ভারত বায়োটেক’ কীভাবে বদলে দিল চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস?

১৯৯৬ সালে হায়দরাবাদের একটি সাধারণ ল্যাবরেটরি থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে, ভারত বায়োটেক (Bharat Biotech) কেবল একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা নয়, বরং ভারতের বৈশ্বিক প্রভাব বা ‘সফট পাওয়ার’-এর এক শক্তিশালী স্তম্ভ। মানবসেবায় সফল ৩০ বছর পূর্ণ করল এই সংস্থাটি। এই তিন দশকে ডঃ কৃষ্ণা এল্লা এবং সুচিত্রা এল্লার নেতৃত্বে ভারত বায়োটেক এমন সব টিকা বা ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছে, যা আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) টিকাদান কর্মসূচির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

শূন্য থেকে সাফল্যের শিখরে: ভারত বায়োটেকের সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিনের মাধ্যমে। যেখানে বিদেশি কোম্পানিগুলো চড়া দামে এই টিকা বিক্রি করত, সেখানে ভারত বায়োটেক অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে তা বাজারে এনে বিপ্লব ঘটায়। এরপর রোটাভ্যাক (Rotavac) টিকার মাধ্যমে শিশুদের ডায়রিয়া প্রতিরোধে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়োয় সংস্থাটি। তবে তাদের মুকুটে শ্রেষ্ঠ পালকটি যোগ হয় অতিমারি চলাকালীন। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ‘কোভ্যাক্সিন’ (Covaxin) তৈরি করে তারা প্রমাণ করে দেয় যে ভারত কেবল অনুকরণ করে না, উদ্ভাবনও করতে জানে।

বৈশ্বিক টিকাদানের ভরসা: বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬৫টিরও বেশি দেশে ভারত বায়োটেকের টিকা সরবরাহ করা হয়। পোলিও, টাইফয়েড থেকে শুরু করে জিকা ভাইরাসের টিকা—সবক্ষেত্রেই হায়দরাবাদের এই সংস্থাটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে টাইফয়েডের জন্য তাদের তৈরি করা ‘টাইববার ভ্যাপ’ (Typbar TCV) বিশ্বের প্রথম কনজুগেট ভ্যাকসিন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ৩০ বছরের এই মাইলফলক ছোঁয়ার মুহূর্তে সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ক্যানসার এবং ম্যালেরিয়ার মতো মারণ রোগের সাশ্রয়ী টিকা তৈরি করা। ভারতের এই ‘ভ্যাকসিন ডিপ্লোমেসি’ আজ সারা বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy