প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যে অনেক সময় এমন কিছু বিষয় সামনে আসে যা বিজ্ঞান এবং ইতিহাস—উভয়কেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। সম্প্রতি মাটি খুঁড়তে গিয়ে দুই শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় এমনই এক রহস্যময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে হাড়গোড় নয়, বিশেষজ্ঞদের ঘুম কেড়েছে শিশুদের কোমরে থাকা দুটি অদ্ভুত ‘বেল্ট’।
ঘটনার সূত্রপাত: একটি প্রাচীন জনবসতির ধ্বংসাবশেষ নিয়ে গবেষণার সময় গবেষকরা মাটির নিচে দুই শিশুর সমাধি খুঁজে পান। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে করা হচ্ছে, এই দেহগুলি কয়েক শত বছরের পুরনো। কিন্তু খনন কার্য যত এগোয়, ততই রহস্য দানা বাঁধতে থাকে। দেখা যায়, দুই শিশুর কঙ্কালের কোমরে পেঁচিয়ে রয়েছে ধাতব বা পাথরের তৈরি এক বিশেষ ধরনের বেল্ট বা কোমরবন্ধনী।
কেন এই বেল্ট নিয়ে তোলপাড়? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ওই নির্দিষ্ট যুগের কোনো ইতিহাসেই এই ধরণের বেল্ট ব্যবহারের প্রমাণ মেলেনি। সাধারণত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় অলঙ্কার বা মুদ্রা পাওয়া গেলেও, এমন সুক্ষ্ম কারুকার্যমণ্ডিত এবং অদ্ভুত গঠনের বেল্ট আগে কখনও দেখা যায়নি।
-
রহস্যময় উপাদান: বেল্টটি ঠিক কী দিয়ে তৈরি, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এটি কি কোনো সুরক্ষা কবচ নাকি কোনো প্রাচীন ধর্মীয় রীতির অংশ, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
-
বিশেষজ্ঞদের মতামত: ল্যাবে পরীক্ষা করার পরও বিশেষজ্ঞরা এর সঠিক উৎস বা উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে হিমসিম খাচ্ছেন। অনেকের মতে, এটি কোনো রাজকীয় চিহ্ন হতে পারে, আবার কেউ কেউ মনে করছেন এর পেছনে কোনো অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস লুকিয়ে থাকতে পারে।
বর্তমানে দেহাবশেষ ও সেই রহস্যময় বেল্ট দুটিকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই রহস্যভেদ হলে ওই সময়ের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে এমন কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে, যা হয়তো ইতিহাসের পাতাকেই বদলে দেবে।