বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনরত সংগ্রামী যৌথমঞ্চের হাইভোল্টেজ কর্মসূচিতে রাশ টানল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী রবিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের হাজরা মোড়ে মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল আন্দোলনকারীদের। তবে আদালতের নির্দেশে সেই মিছিলের আবেদন খারিজ হলেও, নির্দিষ্ট কিছু শর্তে অবস্থান বিক্ষোভের অনুমতি পেয়েছে মঞ্চ।
আদালতের রায় ও কড়া শর্তাবলী: আজ শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে হাজরা মোড়ে কোনো বর্ণাঢ্য মিছিল করা যাবে না। তবে গণতান্ত্রিক উপায়ে বিক্ষোভ দেখানোর অধিকারে হস্তক্ষেপ করেনি আদালত। পরিবর্তে বেঁধে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু নিয়ম:
বিক্ষোভের অনুমতি: হাজরা মোড়ে ৫০০ জন আন্দোলনকারী নিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ করা যাবে।
সময়সীমা: দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত চলবে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি।
অগ্নিপথের আশঙ্কা: মিছিলের মাধ্যমে যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বা ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই মিছিলের আবেদন খারিজ করেছে আদালত।
পুলিশি নজরদারি: নির্ধারিত সময়ের পর আন্দোলনকারীদের এলাকা খালি করে দিতে হবে এবং কোনো প্ররোচনামূলক স্লোগান দেওয়া যাবে না।
কেন এই কর্মসূচি? দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারি কর্মীরা বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে হাজরা মোড়কে বেছে নিয়েছিলেন সংগ্রামী যৌথমঞ্চের নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি ছিল, সরকার যদি তাঁদের ন্যায্য পাওনা না মেটায়, তবে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়বে।
রাজনৈতিক উত্তেজনা: মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুকে সরকারি কর্মীদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছে। মিছিল বাতিল হওয়ায় পুলিশ কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও, হাজরার মতো জনবহুল এলাকায় ৫০০ জনের জমায়েত সামলানো প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
উপসংহার: রবিবার দুপুরের হাজরা মোড় কি সরকারি কর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হবে? নাকি শর্তভঙ্গের দায়ে মাঝপথেই থমকে যাবে আন্দোলন? এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





