পঞ্চায়েত স্তরে রাজনীতির লড়াই এবার গিয়ে ঠেকেছিল রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে। অভিযোগ উঠেছিল, বিজেপি শাসিত নির্দিষ্ট কিছু পঞ্চায়েত এলাকায় যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও মহিলারা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা পাচ্ছিলেন না। তবে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হতেই ছবিটা আমূল বদলে গেল। মাসের পর মাস আটকে থাকার পর অবশেষে সেই সমস্ত মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকল প্রকল্পের টাকা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার শাসক-বিরোধী তরজায় উত্তাল বাংলার রাজনীতি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: উত্তরবঙ্গের একটি বিজেপি শাসিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কিছু মহিলার অভিযোগ ছিল, তাঁরা রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো টাকা পাচ্ছিলেন না। তাঁদের দাবি ছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসন তাঁদের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছিল। নিরুপায় হয়ে মহিলারা আদালতের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টে মামলা উঠতেই প্রশাসন ও পঞ্চায়েতের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়।
আদালতের প্রভাব: আইনি জটিলতা তৈরি হতেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। মামলাকারীদের দাবি, হাইকোর্ট এই বিষয়ে জবাবদিহি চাওয়ার ঠিক আগেই তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বকেয়া টাকা ঢুকতে শুরু করে। তৃণমূলের দাবি, “বিজেপি উন্নয়ন আটকে রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু আইনি ভিতে তা টেকেনি।” অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা দাবি, “আবেদনে ত্রুটি ছিল, মামলা বা রাজনীতির সঙ্গে এর কোনো যোগ নেই।” তবে কারণ যাই হোক, নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকায় খুশি এলাকার কয়েকশ মহিলা।