পারস্য উপসাগরের উত্তপ্ত জলরাশিতে ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার ঘটনায় এবার রণংদেহি মেজাজে ভারত। পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইরানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে জানিয়ে দিলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে ভারতের চলাচলের জন্য কারও দয়া বা অনুমতির প্রয়োজন নেই। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নাবিকদের সুরক্ষা নিয়ে কোনও অবস্থাতেই আপস করা হবে না।
কী ঘটেছিল মাঝসমুদ্রে?
শনিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় ‘সানমার হেরাল্ড’ এবং ‘জাগ অর্ণব’ নামে দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর গানবোট।
ক্ষয়ক্ষতি: গুলিবর্ষণে একটি জাহাজের জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আতঙ্কিত নাবিকদের রেডিও বার্তায় শোনা যায় তাঁদের আর্তনাদ।
ফিরে আসার নির্দেশ: আইআরজিসি-র বাধার মুখে বাধ্য হয়ে ইরাকি তেলবাহী জাহাজ দুটিকে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে হয়।
দিল্লির কড়া জবাব ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন
ঘটনা জানামাত্রই দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বিদেশ মন্ত্রক। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন:
আন্তর্জাতিক আইন: হরমুজ প্রণালী বিশ্বের একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। এখানে কোনও দেশ এককভাবে ‘টোল’ বা ‘বাধ্যতামূলক অনুমতি’র নিয়ম চাপাতে পারে না।
নৌবাহিনীর তৎপরতা: ভারতগামী ২২টি এনার্জি কার্গো জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্ট্রেইট অব হরমুজের কাছে একাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী।
ইরানের অন্দরে ক্ষমতার লড়াই?
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিবাদকেও সামনে এনেছে। একদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী যখন জলপথ খোলা রাখার কথা বলছেন, ঠিক তখনই দেশের সামরিক বাহিনী (IRGC) সরাসরি ভারতীয় জাহাজে গুলি চালিয়ে পাল্টা অবস্থান নিচ্ছে। এতে তেহরানের প্রশাসনিক ও সামরিক স্তরের মধ্যে বিভেদ স্পষ্ট।
ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও মোদীর অবস্থান
ভারতের আমদানিকৃত তেলের সিংহভাগই আসে এই পথ দিয়ে। তাই এই জলপথ অবরুদ্ধ হওয়া মানেই দেশের বাজারে তেলের দামে আগুন লাগা। মোদী সরকারের এই কড়া বার্তা এবং নৌবাহিনীর প্রস্তুতি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক শক্তি প্রদর্শনেও পিছপা হবে না নয়া ভারত।





