পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘের মাঝেই বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল ভারত। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে এই কৌশলগত জলপথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে কোনও প্রকার বাধা বা প্রতিবন্ধকতা বরদাস্ত করা হবে না। ভারতের এই বার্তা সরাসরি নাম না করে ইরান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্দেশ্যেই বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
কেন এই হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট। ভারতের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগ এই পথেই আসে। যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায় বা সেখানে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, তবে ভারতে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে।
ভারতের কড়া বার্তা ও কূটনৈতিক অবস্থান নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত সর্বদা একটি ‘মুক্ত এবং নিরাপদ’ সমুদ্রপথের পক্ষে। বিদেশ মন্ত্রকের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। আমরা চাই সব পক্ষ সংযম বজায় রাখুক। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালীকে বিবাদমুক্ত রাখতে হবে।” ভারত ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলে নিজের নৌবাহিনীর নজরদারি বাড়িয়েছে যাতে ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলি নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্যে সঙ্কটের আশঙ্কা ইজরায়েল-হামাস এবং ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা ইতিপূর্বেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন যদি হরমুজ প্রণালী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, তবে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। ভারত এই বিষয়ে আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও নিরন্তর যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।