বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে এবার চরম সংঘাতের পথে হাঁটল আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নজিরবিহীন ঘোষণায় রীতিমতো কাঁপছে বিশ্ববাজার। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ যেতে গেলেই মার্কিন নৌবাহিনীর বাধার মুখে পড়তে হবে। কেবল অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজই পারাপার করতে পারবে।
ট্রাম্পের বিস্ফোরক ঘোষণা ও নতুন নিয়ম রবিবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের দাপট রুখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অনুমতি বাধ্যতামূলক: এবার থেকে এই নির্দিষ্ট এলাকার জলপথ পেরোতে গেলে জাহাজগুলিকে আগেভাগে মার্কিন কর্তৃপক্ষের থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে।
নৌবাহিনীর টহল: নির্দেশ অমান্য করলেই জাহাজ আটক বা কড়া ব্যবস্থা নেবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো।
ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে? ভারতের জন্য এই খবর অত্যন্ত উদ্বেগের। কারণ:
জ্বালানি সংকট: ভারতের সিংহভাগ খনিজ তেল ও গ্যাস এই হরমুজ প্রণালী হয়েই পারস্য উপসাগর থেকে আসে। এই পথ অবরুদ্ধ হলে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে।
কূটনৈতিক দোটানা: একদিকে কৌশলগত মিত্র আমেরিকা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরান— এই পরিস্থিতিতে ভারত কোন পথে হাঁটবে, তা নিয়ে সাউথ ব্লকে শুরু হয়েছে জরুরি বৈঠক।
যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত? ইরান ইতিমধ্যেই এই পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তেহরান হুমকি দিয়েছে, আমেরিকা জোর করে জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে তারাও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। ফলে যেকোনো মুহূর্তে এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বা ‘টোটাল ওয়ার’ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ পর্যবেক্ষণ:
“হরমুজ প্রণালী বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের পথ। ট্রাম্পের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কি ইরানকে নতজানু করবে, নাকি বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।”





