উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ‘বুলডোজার বাবা’ হিসেবে পরিচিত মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ফের একবার তাঁর কড়া ও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শিরোনামে এলেন। লখনউয়ের এক সভা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যারা বজরংবলি বা হনুমানজিকে মান্য করে না, তাদের ভারতে থাকার কোনো অধিকার নেই। এই মন্তব্য ঘিরেই এখন জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
কড়া মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী: রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক কড়া পদক্ষেপের জন্য যোগী আদিত্যনাথ পরিচিত। অবৈধ নির্মাণ ভাঙা থেকে শুরু করে সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে এনকাউন্টারের নির্দেশ— তাঁর শাসনামলে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয়। এবার সেই কড়া অবস্থানই ধরা পড়ল তাঁর ধর্মীয় বক্তব্যেও।
যোগী আদিত্যনাথের দাবি, ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে হনুমানজি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে।
যারা এই সংস্কৃতির বিরোধিতা করে বা দেবতাকে অপমান করে, তাদের জন্য এই দেশে কোনো জায়গা নেই।
বিগত পদক্ষেপের ছায়া: এই প্রথম নয়, এর আগেও যোগী সরকার অবৈধ মসজিদ এবং বেআইনি স্থাপনা উচ্ছেদে বুলডোজার নামিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছিল। অপরাধীদের দমনে এনকাউন্টার পলিসি নিয়ে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়লেও নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন তিনি। এবারের মন্তব্যটি সেই ‘হিন্দুত্ববাদী’ লাইনেরই এক চরম প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বিরোধীরা সরব হয়েছে। সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের দাবি, বিভাজনের রাজনীতি করে আসল সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে চাইছেন যোগী। অন্যদিকে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো মুখ্যমন্ত্রীর এই সাহসী বয়ানকে স্বাগত জানিয়েছে।
২০২৬-এর দিকে তাকিয়ে উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি সারা দেশেই এই মন্তব্যের প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। তবে যোগী আদিত্যনাথের এই ‘হনুমান মন্ত্র’ যে ভারতের মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।





