নতুন অর্থবছর শুরু হতেই দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনেই ব্যাংক ঋণের গতিতে বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। যেখানে গত মাসগুলোতে ঋণের চাহিদা আকাশছোঁয়া ছিল, সেখানে বর্তমান পরিসংখ্যান কিছুটা হলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই হঠাৎ পতন? অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ সুদের হার এবং আনসিকিউর্ড লোন (যেমন পার্সোনাল লোন)-এর ক্ষেত্রে ব্যাংকের অতিরিক্ত সতর্কতা এই মন্দার মূল কারণ। গত বছর পর্যন্ত যে ঋণের জোয়ার দেখা গিয়েছিল, তাতে এবার কিছুটা রাশ টেনেছে ব্যাংকগুলো।
এক নজরে পরিসংখ্যান: * ক্রেডিট গ্রোথ: ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংক লোনের বার্ষিক বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়েছে ১৪.৮৮%-এ। অথচ এর আগের ১৫ দিনে এই হার ছিল ১৫.৯৬%।
ঋণের পরিমাণ: এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪.৫১ লক্ষ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে।
আগের তুলনায় চিত্র: গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত ঋণের পরিমাণ ছিল ২১৮ লক্ষ কোটি টাকা, যা ১৫ এপ্রিলের হিসেবে কমে হয়েছে ২১৪ লক্ষ কোটি টাকা।
ডিপোজিট বা আমানতে খুশির খবর: ঋণের চাহিদা কমলেও ব্যাংকে আমানত বা জমার পরিমাণ কিন্তু ঊর্ধ্বমুখী। RBI-এর রিপোর্ট বলছে, বার্ষিক ভিত্তিতে আমানত বেড়েছে ১২.১২%। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬১.৮৮ লক্ষ কোটি টাকা, যা গত বছর এই সময়ে ছিল ২৩৩.৫৬ লক্ষ কোটি।
ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব: গত সাত মাস ধরে ব্যাংক ক্রেডিট গ্রোথ দুই অঙ্কের ঘরে থাকলেও, এপ্রিলের এই ‘স্লো-ডাউন’ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কর্পোরেট এবং খুচরো লোন গ্রাহকরা আপাতত কিছুটা সতর্ক। তবে জিএসটি (GST) কাঠামোর সংস্কার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ সচল থাকায় দীর্ঘমেয়াদে এই চাহিদা আবার বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।





