জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, জীবনের প্রতিটি ঘটনার পেছনেই কোনো না কোনো মহাজাগতিক সংযোগ থাকে। অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না কেন হঠাৎ আমাদের আর্থিক অবস্থা থমকে যায়, কেন অকারণে সম্পর্কে তিক্ততা বা পরিবারে কলহ শুরু হয়। বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ হতে পারে ‘ছায়াগ্রহ’ রাহুর দুর্বল অবস্থান। পণ্ডিত হিতেন্দ্র কুমার শর্মার মতে, রাহু সবসময় নেতিবাচক ফল দেওয়ার আগে কিছু সূক্ষ্ম সংকেত পাঠায়।
রাহুর অশুভ প্রভাবের প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
আর্থিক সংকট: হঠাৎ ব্যবসা থমকে যাওয়া বা বিনিয়োগে লোকসান।
খাবারে চুল: বারবার খাবারে চুল পাওয়া রাহুর দুর্বল শক্তির লক্ষণ।
অকারণে বিবাদ: প্রতিবেশী বা আত্মীয়দের সঙ্গে তুচ্ছ কারণে অশান্তি এবং শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি।
শারীরিক ও বাহ্যিক লক্ষণ: হাতের নখ দুর্বল হয়ে ভেঙে যাওয়া, চপ্পল চুরি হওয়া বা বারবার ভেঙে যাওয়া।
মানসিক অস্থিরতা: নিজের ভুল না থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়া বা সমালোচনার প্রবণতা তৈরি হওয়া।
তবে জ্যোতিষশাস্ত্র প্রতিকারেরও পথ দেখায়। রাহুকে শক্তিশালী ও শান্ত করতে নতুন কোনো ভাষা শেখা, দেবী সরস্বতীর আরাধনা, দরিদ্রদের সেবা এবং প্রতি বুধবার ও শনিবার পাখিদের খাবার দেওয়া অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সন্ধ্যায় আকাশের মেঘের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকা মানসিক প্রশান্তি আনে। এই লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে সচেতন হলে জীবনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।





