হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথে নামলেন মমতা! ধর্মতলায় হঠাৎ নেত্রীকে দেখে হতবাক ভিড়

কাউকে আগাম আঁচ করতে না দিয়ে বুধবার বিকেলে কলকাতার রাজপথে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনের দাবিতে সোজা ধর্মতলার রাস্তায় হাজির হয়ে তিনি বার্তা দিলেন, হকারদের পাশে তৃণমূল কংগ্রেস আছে।

কীভাবে ঘটল এই নাটকীয় সফর? বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরোন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গী ছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। গন্তব্য ছিল ধর্মতলা। ভরা বিকেলে নেত্রীকে রাস্তায় দেখে মুহূর্তের মধ্যে ভিড় জমে যায় এলাকায়। হকারদের সাথে তিনি কথা বলবেন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেবেন—এই উদ্দেশ্যেই ছিল তাঁর এই আকস্মিক সফর।

রাজনৈতিক অস্বস্তি ও বিদ্রোহের সুর: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যে এলাকায় এদিন নেত্রী প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন, তা উত্তর কলকাতা লোকসভার অন্তর্ভুক্ত। অথচ বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এই কেন্দ্রের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে রয়েছেন। এদিকে, বিধায়ক পাশে থাকার কথা বললেও, এদিনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে দেখা মেলেনি চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

বিধায়কদের অনুপস্থিতিতে অস্বস্তি: হকার উচ্ছেদ ও ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিধানসভার বিধায়কদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বসার ডাক দিয়েছিল তৃণমূল। শিয়ালদহ প্রাচী সিনেমা হলের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্রের মতো নেতারা উপস্থিত থাকলেও, সূত্রের খবর—দলীয় কর্মসূচিতে অর্ধেকের বেশি বিধায়কই ছিলেন অনুপস্থিত। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রথম বড় কর্মসূচিতে দলের অন্দরের এই বিভাজন ও বিধায়কদের অনুপস্থিতি তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলেছে।

কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, “পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ আমরা মানব না। মানুষের পেটে লাথি মারা সহ্য করা হবে না।” নেত্রী নিজে রাস্তায় নেমে পড়ায় এবার হকার উচ্ছেদ ইস্যু আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy