স্ত্রীর ‘ডগ স্কোয়াড’ বনাম স্বামীর প্রাণ ওষ্ঠাগত! কুকুরের অত্যাচারে নাজেহাল স্বামী ছুটলেন ডিভোর্সের আদালতে

সংসারে ‘তৃতীয় ব্যক্তি’র আগমনে অশান্তি তো অনেক শুনেছেন, কিন্তু ৪০টি সারমেয় বা কুকুরের উপস্থিতিতে কি কখনও সংসার ভাঙতে দেখেছেন? সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের একটি বিচিত্র মামলা দেখে চক্ষু চড়কগাছ আদালতেরও। স্ত্রীর মাত্রাতিরিক্ত পশুপ্রেমের বলি হয়ে এবার সরাসরি বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স চেয়ে বসলেন এক অতিষ্ঠ স্বামী।

ঘটনাটি ঠিক কী? আদালতে পেশ করা আবেদন অনুযায়ী, ওই দম্পতির দীর্ঘদিনের সাজানো সংসারে অশান্তির সূত্রপাত স্ত্রীর ‘ডগ স্কোয়াড’ নিয়ে।

  • ঘর নয় যেন চিড়িয়াখানা: স্বামীর অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী বাড়িতে একের পর এক পথকুকুর নিয়ে আসতে শুরু করেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০-এ!

  • শোবার ঘরেও কুকুরের রাজত্ব: স্বামীর দাবি, শোবার ঘর থেকে রান্নাঘর— সর্বত্রই এই সারমেয় বাহিনীর দাপট। এমনকি রাতে ঘুমানোর জায়গাটুকুও কেড়ে নিয়েছে তারা।

  • অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ: ৪০টি কুকুরের মলমূত্র এবং দুর্গন্ধে বাড়িতে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। প্রতিবাদ করলেই জুটছে স্ত্রীর গালিগালাজ।

স্বামীর করুণ আর্তি আদালতে স্বামী আক্ষেপ করে বলেন, “আমি বাইরে কাজ করে এসে একটু শান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারি না। স্ত্রীর কাছে আমার চেয়েও ওই কুকুরগুলোর গুরুত্ব বেশি। সারাদিন তাদের খাবার আর পরিচর্যা নিয়েই তিনি ব্যস্ত। কুকুরের কামড় খাওয়া এখন আমার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

আদালতের পর্যবেক্ষণ প্রাথমিকভাবে মামলাটি পারিবারিক কাউন্সেলিং-এ পাঠানো হয়েছে। তবে স্বামী নাছোড়বান্দা— হয় কুকুর থাকবে, না হয় তিনি। স্ত্রীর স্পষ্ট জবাব, তিনি তাঁর ‘সন্তানসম’ কুকুরদের ছাড়তে পারবেন না।

জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া: সামাজিক মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে হাসাহাসি ও সমবেদনার ঝড় উঠেছে। কেউ বলছেন, “অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়,” আবার কেউ বলছেন, “বেচারা স্বামীর জন্য মায়া হচ্ছে।”

বিশেষ মন্তব্য: “পশুপ্রেম মহৎ গুণ সন্দেহ নেই, কিন্তু সেই প্রেম যখন মানুষের ঘর ভাঙার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাকে কী বলা যায়? উত্তর খুঁজছে আদালত।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy