চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর অথচ ভয়ানক খবর সামনে এল। শখ করে গলায় একটি রঙিন ট্যাটু (Tattoo) করিয়েছিলেন এক তরুণ, কিন্তু সেই শখই যে তাঁর জীবনের জন্য এতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। রঙিন কালির প্রতিক্রিয়ায় তরুণের গলা ফুলে মারাত্মক আকার ধারণ করে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের জটিল অস্ত্রোপচারের (Surgery) সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
মেডিক্যাল সায়েন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই তরুণ যখন হাসপাতালে পৌঁছান, তখন তাঁর গলার লিম্ফ নোড বা লসিকা গ্রন্থিগুলি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন যে, ট্যাটুতে ব্যবহৃত রঙিন কালিতে থাকা ধাতব উপাদান এবং রাসায়নিকের কারণে তীব্র ‘অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন’ এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এই ধরণের রঙিন কালিতে অনেক সময় কোবাল্ট বা ক্যাডমিয়াম থাকে, যা শরীরের সংবেদনশীল টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলে সংক্রমণ মস্তিষ্ক বা ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল।
অস্ত্রোপচারের পর ওই তরুণের গলা থেকে পুঁজ এবং বিষাক্ত তরল বের করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল হলেও চিকিৎসকরা সর্তক করেছেন যে, অনুমোদনহীন জায়গায় বা সস্তা কালি দিয়ে ট্যাটু করানো ডেকে আনতে পারে এই ধরণের বিপর্যয়। বিশেষ করে ঘাড় বা গলার মতো সংবেদনশীল জায়গায় ট্যাটু করানোর আগে ত্বকের পরীক্ষা (Patch Test) করা অত্যন্ত জরুরি। ফ্যাশনের নেশায় নিজের অজান্তেই শরীরকে বিষাক্ত রাসায়নিকের আঁতুড়ঘর বানিয়ে ফেলছেন কি না, তা নিয়ে এখনই সচেতন হওয়ার সময় এসেছে।