সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ইঞ্চি জমি ছাড়া যাবে না! ছাব্বিশের মহাযুদ্ধে তৃণমূলের ‘আকাশবাহিনী’ নামালেন সেনাপতি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন স্রেফ ভোট নয়, এ এক মরণপণ যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধের রণকৌশলে বড়সড় বদল আনলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার জাতীয় যুব দিবসে বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ডিজিটাল কনক্লেভ’ থেকে দলের কর্মীদের দেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করলেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, তৃণমূলের বুথ কর্মীরা যদি দলের ‘আর্মি’ হন, তবে সোশ্যাল মিডিয়া যোদ্ধারা হলেন দলের ‘এয়ারফোর্স’।

ডিজিটাল ব্লু-প্রিন্ট ও ১০০ দিনের টার্গেট আগামী ১০০ দিনকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে অভিষেক কর্মীদের একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশ:

  • ৫ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান: প্রতি ৫ দিন অন্তর সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য নতুন প্রচার কৌশল বা ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করতে হবে।

  • বিকল্প সংবাদমাধ্যম: অভিষেক অভিযোগ করেন, মূলধারার সংবাদমাধ্যম সরকারের উন্নয়ন দেখায় না। তাই ডিজিটাল যোদ্ধাদেরই হয়ে উঠতে হবে ‘বিকল্প সংবাদমাধ্যম’।

  • যুক্তি বনাম চটক: সস্তায় লাইক বা শেয়ার পাওয়ার নেশায় কোনও চটকদার বা অশালীন পোস্ট করা যাবে না। বিজেপিকে আক্রমণ করতে হবে নিখুঁত তথ্য, যুক্তি ও পরিসংখ্যান দিয়ে।

বিজেপির আইটি সেল বনাম তৃণমূলের যোদ্ধা অভিষেকের মতে, বিজেপির হাতে অফুরন্ত অর্থবল এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সি থাকতে পারে, কিন্তু তৃণমূলের আছে লড়াকু যোদ্ধা। তিনি কর্মীদের পরামর্শ দেন, বিজেপির মিথ্যে ভিডিও বা পুরনো ফুটেজ ব্যবহারের হাতেনাতে জবাব দিতে ‘ক্রস চেকিং’ বা সত্যতা যাচাই করতে হবে। তাঁর দাবি, ডিজিটাল যোদ্ধারা যদি সঠিকভাবে কাজ করেন, তবে আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে ৫০-এর নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব।

উন্নয়ন বনাম বঞ্চনার লড়াই মঞ্চ থেকে অভিষেক ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘স্বাস্থ্য সাথী’র মতো প্রকল্পের সাফল্যের কথা আরও বেশি করে প্রচারের নির্দেশ দেন। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা আটকে রাখা সত্ত্বেও কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই তুলনামূলক খতিয়ান সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরতে হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy