সোনার দামে আকাশছোঁয়া আগুন! গয়না কেনার অভ্যাসে বড় বদল আনলেন মধ্যবিত্তরা

সোনার অগ্নিমূল্য এবং সরকারি শুল্ক নীতির জোড়া ফলায় বড়সড় ধাক্কা খেল দেশের গয়নার বাজার। ক্রিসিল রেটিংসের সাম্প্রতিকতম তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে সোনার গয়নার বিক্রি ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর ফলে গয়না কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ এখন চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা ভারী অলঙ্কার কেনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন বললেই চলে।

সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সোনার ওপর কাস্টম ডিউটি ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশে পৌঁছানোর পর গয়নার বাজার আরও বেশি অস্থির হয়ে উঠেছে। এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। ক্রিসিল রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গয়নার বিক্রি কমলেও সোনা বিক্রির মোট আয়ের দিক থেকে সংগঠিত জুয়েলারি সংস্থাগুলি ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখতে পারে, যার একমাত্র কারণ সোনার আকাশছোঁয়া দাম।

বাজারে ক্রেতাদের পছন্দ ও রুচিতে বড় ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন আর ভারী গয়নার ওপর ক্রেতাদের আগ্রহ নেই। পরিবর্তে ১৬ থেকে ২২ ক্যারেট গয়না এবং স্টাডেড জুয়েলারির চাহিদা তুঙ্গে। গয়নার পাশাপাশি বিনিয়োগ হিসেবে সোনার বার ও কয়েন কেনার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুই বছরে গোল্ড বার ও কয়েনের বিক্রি ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মানুষ এখন গয়নার চেয়ে সোনাকে বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবেই বেশি পছন্দ করছেন।

বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করতে সোনার আমদানির ওপর রাশ টানার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৭২০ টন সোনা আমদানি করেছে, যার ফলে প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে গেছে। এই বিশাল অঙ্কের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতেই শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরে গয়নার মোট বিক্রি ৬২০ থেকে ৬৪০ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, যা গত দশ বছরের নিরিখে সর্বনিম্ন। সব মিলিয়ে সোনার বাজারে এখন এক সন্ধিক্ষণ চলছে, যেখানে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা ও সরকারি নীতির মধ্যে টানাপোড়েন স্পষ্ট।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy