‘সেলফ-আইডেন্টিটি’র অধিকার শেষ? লোকসভায় পাস বিতর্কিত রূপান্তরকামী সংশোধনী বিল ২০২৬!

তুমুল হট্টগোল এবং বিরোধী দলগুলির প্রবল আপত্তির মাঝেই মঙ্গলবার (২৪ মার্চ, ২০২৬) লোকসভায় পাস হয়ে গেল ‘রূপান্তরকামী ব্যক্তি (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল ২০২৬’। নতুন এই বিলটি ২০১৯ সালের মূল আইনের বেশ কিছু মৌলিক জায়গা বদলে দিয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের ‘আত্ম-পরিচয়’ (Self-perception) বা নিজের পছন্দমতো লিঙ্গ পরিচয়ের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অধিকার রক্ষা কর্মীরা।

আইনি স্বীকৃতির জন্য নতুন পদ্ধতি: আগে রূপান্তরকামী হিসেবে পরিচয়পত্র পেতে কেবল জেলা শাসকের (DM) কাছে একটি হলফনামা জমা দিলেই চলত। কিন্তু ২০২৬-এর নতুন বিল অনুযায়ী:

  • মেডিক্যাল বোর্ড বাধ্যতামূলক: এখন থেকে রূপান্তরকামী পরিচয়ের শংসাপত্র পেতে গেলে একটি বিশেষ ‘মেডিক্যাল বোর্ড’-এর স্ক্রিনিংয়ের মুখোমুখি হতে হবে। চিফ মেডিক্যাল অফিসার (CMO)-এর নেতৃত্বাধীন এই বোর্ড আবেদনকারীর শারীরিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে সুপারিশ করলেই জেলা শাসক শংসাপত্র দেবেন।

  • সংজ্ঞার পরিবর্তন: নতুন বিলে রূপান্তরকামী ব্যক্তির সংজ্ঞা অনেকখানি সংকুচিত করা হয়েছে। কেবল জন্মগতভাবে শারীরিক পরিবর্তন (Intersex) বা হিজড়া, কিন্নর, আরাভানির মতো সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিচিতি থাকলেই এই আইনের সুবিধা পাওয়া যাবে। শুধুমাত্র ‘মানসিক অনুভূতি’ বা ‘সেলফ-পারসেপশন’-এর ভিত্তিতে কেউ আর রূপান্তরকামী হিসেবে আইনি স্বীকৃতি পাবেন না।

  • শাস্তির কড়াকড়ি: রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের ওপর কোনো অপরাধ বা তাঁদের জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানোর সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

বিরোধী দলগুলির মতে, এই বিলটি সুপ্রিম কোর্টের ২০১৪ সালের ঐতিহাসিক ‘নালসা’ (NALSA) রায়ের পরিপন্থী, যেখানে নিজের লিঙ্গ পরিচয় বেছে নেওয়াকে মৌলিক অধিকার বলা হয়েছিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy