২০২৬ সালের বহুল প্রতীক্ষিত সূর্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো। জ্যোতিষশাস্ত্র এবং বিজ্ঞান—উভয় মতেই গ্রহণের পরবর্তী সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, গ্রহণের সময় পরিবেশে এক ধরনের নেতিবাচক শক্তির প্রভাব পড়ে, যা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। তাই গ্রহণ শেষ হওয়ার পর আপনার এবং আপনার পরিবারের মঙ্গলের জন্য ১০টি কাজ করা একান্ত প্রয়োজন।
গ্রহণ পরবর্তী ১০টি জরুরি করণীয়:
১. স্নান করা: গ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্নান করে নেওয়া উচিত। ধর্মীয় মতে, এটি শরীরের অশুদ্ধি দূর করে। স্নানের জলে সামান্য গঙ্গাজল মিশিয়ে নিলে তা আরও শুভ বলে মনে করা হয়। ২. ঘর পরিষ্কার: গ্রহণের পর ঘর-বাড়ি ঝাড়ু দিয়ে মুছে পরিষ্কার করা উচিত। সম্ভব হলে নুন জল দিয়ে ঘর মুছুন, যা নেতিবাচক শক্তি দূর করতে সাহায্য করে। ৩. রান্না করা খাবার: গ্রহণের আগে রান্না করা খাবার যদি অবশিষ্ট থাকে, তবে তা গ্রহণ না করাই ভালো। তবে দুব্বো ঘাস বা তুলসী পাতা দেওয়া থাকলে তা খাওয়া যেতে পারে। সাধারণত টাটকা খাবার তৈরি করে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ৪. ঠাকুরঘর পরিষ্কার ও পূজা: স্নান সেরে বাড়ির মন্দির বা ঠাকুরঘর পরিষ্কার করুন এবং দেব-দেবীর মূর্তিতে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন। এরপর ধূপ-দীপ জ্বেলে আরতি করুন। ৫. দান-ধ্যান: গ্রহণের পর দান করা অত্যন্ত পুণ্য কর্ম। দুঃস্থদের চাল, ডাল, কালো তিল বা বস্ত্র দান করলে গ্রহের কুপ্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ৬. তুলসী গাছে জল: বাড়ির তুলসী তলা পরিষ্কার করে সেখানে জল অর্পণ করুন এবং প্রদীপ জ্বালান। ৭. গঙ্গাজল ছেটানো: পুরো বাড়িতে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন। এটি ঘরকে শুদ্ধ করে এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখে। ৮. জপ ও মন্ত্রপাঠ: গ্রহণ পরবর্তী সময়ে ইষ্টদেবতার মন্ত্র জপ করা ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার করে। ৯. গর্ভবতী মহিলাদের সতর্কতা: গ্রহণের সময় যারা ঘরে ছিলেন, সেই গর্ভবতী মহিলারা গ্রহণ শেষে অবশ্যই স্নান করবেন এবং ভগবানের নাম স্মরণ করবেন। ১০. পুরানো জল ত্যাগ: গ্রহণের সময় পাত্রে রাখা জল বদলে নতুন জল ভরে নিন। পানীয় জলের শুদ্ধতা বজায় রাখা স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।
মনে রাখবেন, এই নিয়মগুলি যুগ যুগ ধরে চলে আসা বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ। সুস্থ থাকতে এবং মানসিক তৃপ্তির জন্য এই সহজ কাজগুলি আপনিও সেরে ফেলতে পারেন।