হাতের জাদুতে যারা গল্প বোনেন, তাদেরই একজন বীরভূমের তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়। এবারের সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ঘোষিত পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে বাংলার এই কৃতি কন্যার নাম। কেবল নকশিকাঁথা শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা নয়, বরং বীরভূমের ২০ হাজারেরও বেশি মহিলাকে এই কাজে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর করার অনন্য কৃতিত্বের অধিকারী তিনি। পদ্ম সম্মান পাওয়ার খবরে শিল্পীর চোখে এখন আনন্দের জল, আর মুখে তৃপ্তির হাসি।
এই সাফল্যের নেপথ্যে কে? পদ্মশ্রী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁর এই শিল্পযাত্রার মূল কারিগর তাঁর মা মায়া বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরস্কারটি মাকেই উৎসর্গ করে তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত খুশি। বহুবছর ধরে এই দিনটার অপেক্ষা করছিলাম। এমব্রয়ডারির কাজ মায়ের কাছেই শেখা। গত ৪০ বছর ধরে সূঁচ-সুতোর কারিকুরি করছি।” নকশিকাঁথা কেবল কাপড়ের টুকরো নয়, তৃপ্তিদেবীর হাতের ছোঁয়ায় সেখানে জীবন্ত হয়ে ওঠে গ্রামবাংলার জীবনচিত্র, সমাজ এবং রামায়ণ-মহাভারতের কালজয়ী আখ্যান।
তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়ের মুকুটে পালক অবশ্য এটিই প্রথম নয়। ২০১২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন। এরপর ২০১৭ সালে বঙ্গশ্রী এবং ২০১৮ সালে হস্তশিল্পে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান ‘শিল্পগুরু’ উপাধিও পান তিনি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ভারতীয় লোকশিল্পের প্রচারের জন্য বার্মিংহাম, লন্ডন এবং জাপানেও পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবারের পদ্মশ্রী সম্মান যেন সব অপেক্ষার অবসান ঘটাল। ২০ হাজার মহিলার স্বনির্ভরতার লড়াইয়ের এই স্বীকৃতি আজ বীরভূম তথা গোটা বাংলার মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করল।